কুমিল্লায় বাবার কবরের পাশে শায়িত হলেন করোনায় মৃত কনস্টেবল জসিম

জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল
করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) মারা যান পুলিশের কনস্টেবল জসিম উদ্দিন। নিহত কনস্টেবল জসিম (৩৯) কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের কাঠালিয়া গ্রামের মৃত আবদুল হকের ছেলে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে নিজ গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে সমাহিত করা হয় জসিমকে।
নিহত জসিমের জানাজায় উপস্থিত ছিলেন বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ মোজাম্মেল হক, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মীর হোসেন মিঠু, পরিদর্শক (তদন্ত) মাসুদ আলম, দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সাজ্জাদ হোসেন, এসআই সুজয় ও পরিবারের লোকজন।
নিহত জসিম ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের ওয়ারী থানায় কর্মরত ছিলেন। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।
গত ২৪ এপ্রিল তার শরীরে প্রথম করোনার উপসর্গ দেখা দেয়। এরপর হোম কোয়ারেন্টাইনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। মঙ্গলবার রাত ১০টায় তিনি মারা যান। আজকের পরীক্ষার রিপোর্ট আসে তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইফতেখার আহমেদ।
তিনি বলেন, গত ২৪ এপ্রিল করোনা উপসর্গ দেখা দেয়ার পর তার স্যাম্পল নিয়ে আইইডিসিআরে পাঠানো হয় এবং তাকে পাঠানো হয় রাজারবাগে হোটেল আল সালামে পুলিশি তত্ত্বাবধানে হোম কোয়ারেন্টাইনে। গত রাতে তিনি ঢামেক হাসপাতালে মারা যান। আজ করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ রিপোর্ট হাতে পেয়েছি।
করোনাযুদ্ধে প্রথম পুলিশ সদস্য হিসেবে জসিম মারা যাওয়ায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ওয়ারীর ডিসি ইফতেখার। তিনি বলেন, আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় ও বৈশ্বিকভাবে করোনার যে প্রাদুর্ভাব, এটা মোকাবিলায় চিকিৎসক-নার্সদের পাশে থেকে ফ্রন্টলাইন ফাইটার হিসেবে কাজ করছে পুলিশ। পুলিশ সদস্য হিসেবে করোনায় জসিমই প্রথম মারা গেলেন। এটা আমাদের বাহিনীর জন্য দুঃখের ও অপূরণীয় ক্ষতির। দুঃখজনক যেকোনো মৃত্যুই কাম্য নয়।

২৯ এপ্রিল, ২০২০।