চাঁদপুরে ত্রৈমাসিক বিচার বিভাগীয় সম্মেলনে জেলা ও দায়রা জজ তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদনে আইনের নাম ও ধারা সুস্পষ্টভাবে দিতে হবে

SONY DSC

স্টাফ রিপোর্টার :
চাঁদপুরের জেলা ও দায়রা জজ সালেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিচার বিভাগে চলমান মামলা নিস্পত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিচারক, পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও আইনজীবীসহ প্রত্যেকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গত শনিবার সকালে চাঁদপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ত্রৈমাসিক বিচার বিভাগীয় সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা ও দায়রা জজ সালেহ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলার বিচার প্রশাসনের সব বিচারক ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, জেলা কারাগারের কর্মকর্তা, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি, চাঁদপুরের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি), জিপি এবং চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির আইনজীবীরা।
জেলা ও দায়রা জজ তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেওয়ানী মামলার ক্ষেত্রে আইন নির্ধারিত প্রত্যেক ধাপে কৌশলীরা প্রযোজ্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করলে মামলার নিস্পত্তিতে জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রিতা কমে যাবে। তিনি বলেন, বিচারাধীন মামলার আসামিদের ধার্য তারিখে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট আদালতে উপস্থাপন করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না। পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, ফৌজদারী মামলার ক্ষেত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তা দাখিলীয় প্রতিবেদনে আইনের নাম ও ধারা সুস্পষ্টভাবে লিখতে হবে। তিনি উপস্থিত বিচারকদের সিভিল রুলস এন্ড অর্ডারস এবং ক্রিমিনাল রুলস এন্ড অর্ডারসের বিধান যথাযথভাবে পালনের নির্দেশনা প্রদান করেন।
সম্মেলনের স্বাগত বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মামনুর রশিদ তাঁর বক্তব্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের সমন্বয় প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে এ সম্মেলনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এরপর তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রদানে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের করণীয় সম্পর্কে বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আতোয়ার রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, চাঁদপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসীর এ বছরের নিষ্পত্তির পরিসংখ্যান অল্পসংখ্যক। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং অপ্রতুল এজলাস সত্বেও চলতি বছরের গত তিন মাসে তাঁর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসিতে প্রায় ৪ হাজার মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। যার মধ্যে দোতরফা সূত্রে নিষ্পত্তি মামলা প্রায় ৫শ’। সাম্প্রতিকালের মধ্যে যা’ সর্বাধিক নিষ্পত্তি। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট বিচারকবৃন্দ, পুলিশ প্রশাসন এবং আইনজীবীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, চাঁদপুরে নিয়মিত পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসী কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। কনফারেন্সের মাধ্যমে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে বাঁধা ও ভুলত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধান করা হয়।
সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মুর্শিদ আহমেদ, মোস্তফা শাহরিয়ার খান, অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল মাজিস্ট্রেট সৈয়দ মো. কায়সার ইউছুফ, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি, পাবলিক প্রসিকিউটর এবং স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর। সম্মেলনে বিচার প্রশাসনের সব পর্যায়ের বিচারকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।