মতলবে ভাতিজা হত্যা মামলায় জেঠাসহ দু’জনের মৃত্যুদণ্ড

এস এম সোহেল
মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ভাতিজা মো. মহিব (৭) কে হত্যার অপরাধে জেঠা জামাল ও অপর সহযোগী সজীবকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এছাড়া উভয় আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে জেলা ও দায়রা জজ এস এম জিয়াউর রহমান এই আদেশ দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামাল মতলব দক্ষিণ উপজেলার ঘোনা গ্রামের গোগন প্রধানিয়া বাড়ির মুকবুল হোসেনের ছেলে এবং সজীব একই গ্রামের ওমেদ আলী বেপারী বাড়ির মো. শহীদ উল্যাহর ছেলে। মামলার বাদী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামালের ছোট ভাই ও নিহত শিশুর বাবা মো. মাসুদ রানা। ঘটনার সময় তিনি প্রবাসে ছিলেন।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন খেলার মাঠ থেকে মহিবকে ধরে নিয়ে চাচা জামাল ও সহযোগী সজীবসহ তার চায়ের দোকানে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং তাজুল ইসলাম নামে ব্যক্তির বাড়ির সেপ্টি ট্যাংকিতে ঢুকিয়ে রাখে। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন মতলব দক্ষিণ থানার এসআই মো. ইব্রাহীম খলিল তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। আদালত প্রায় দেড় বছর ২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন এবং মামলার সব নথিপত্র পর্যালোচনা করে আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় দেন।
আদালত প্রাঙ্গণে এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে নিহত শিশুর বাবা মাসুদ রানা জানান, ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে তার ছেলে মহিব ঘোনা স্কুল মাঠে খেলতে যান। সন্ধ্যায় সে বাড়ি না আসলে অনেক খোঁজাখুঁজি করে ৪ ডিসেম্বর আমার স্ত্রী ও ভাই জামালসহ (আসামি) গিয়ে থানায় সাধারণ ডায়রি করেন। পরবর্তীতে মাসুদ রানাকে স্ত্রী ঘটনাটি জানালে তিনি দেশে এসে ৯ ডিসেম্বর থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্রথমে সজিবকে আটক করেন। সজিব আদালতে স্বীকারোক্তি দিতে গিয়ে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসে।
এ ব্যাপারে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড. রনজিত কুমার রায় চৌধুরী বলেন, এটি একটি হৃদয়বিদারক ও জঘন্য ঘটনা। আদালতের আসামিদের স্বীকারোক্তি ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের উপস্থিতিতে তাদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এ রায়ে বাদী ন্যায়বিচার পেয়েছে। আমরা সন্তুষ্ট।
আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড. মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, অ্যাড. মো. মুরাদ হোসেন চৌধুরী ও অ্যাড. মোহাম্মদ আলী।
৯ নভেম্বর, ২০২০।