মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ!
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্ :
মুক্তিযুদ্ধের ১নং সেক্টর কমান্ডার, চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি উপজেলা) নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম ‘মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কিছু করেননি’ এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার হাজীগঞ্জ বাজারস্থ সবুজ সংঘ কার্যালয়ের হলরুমে উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশ এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
গত ৩০ অক্টোবর স্থানীয় একটি পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদ্য বিদায়ী কমান্ডার মজিবুর রহমান মজুমদারের বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সাবেক কমান্ডার মো. আবু তাহের বলেন, আমি কমান্ডার থাকাকালীন সংসদ সদস্যের পরামর্শক্রমে ‘মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও বিজয় স্তম্ভ’ নির্মাণের জন্য ২০১১ সালের ২৩ আগস্ট জেলা পরিষদে ২০ শতাংশ ভূমির জন্য আবেদন করি। ২০১২ সালের ২ ডিসেম্বর কমপ্লেক্সের জন্য ৬৮ শতাংশ ভূমি চেয়ে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার প্রদান করেন সংসদ সদস্য।
এ সময় বিদায়ী কমান্ডার মুজিবুর রহমান কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য অতিরিক্ত ৩ শতাংশ ভূমি ক্রয় ও কমপ্লেক্সের নকশার নাম করে চাঁদা উত্তোলন, বিনামূল্যে ঘর বিতরণের নামে অর্থ আদায় করেছেন বলেও তিনি অভিযোগ করে তিনি আরো বলেন, উপজেলায় ৪৯ জন মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পান না। এই ভাতা না পাওয়ার ব্যাপারেও অপপ্রচার করা হচ্ছে। চলতি বছরের ৩০ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গ্রেজেটের ৮ ও ১৮ নম্বর বিধি অনুযায়ী তারা কেউ ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন কি-না? তা দেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা কদর আলী ও আবুল বাসার সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ঘর পেতে নগদ অর্থ দেয়ার অভিযোগ করেছেন। তারা বলেন, ঘরের তালিকায় তাদের নাম থাকলেও এখনও ঘর পায়নি। অথচ কমান্ডার মুজিবুর রহমান কদর আলী থেকে ১৯ হাজার, আবুল বাসার থেকে ১১ হাজার টাকা নিয়েছে বলে তারা জানান।
হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মুন্সী মোহাম্মদ মনিরের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন বিএলএফ কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম মহন, মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন রতন। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা আবিদুর রহমান, গাজী মোবারক, আব্দুল মান্নান, আব্দুল লতিফ, আব্দুল গফুর, আব্দুর রশিদসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধা, প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ, জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে বিদায়ী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মজিবুর রহমান বলেন, এসব মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণে মুক্তিযোদ্ধাদের সিদ্ধান্তনুযায়ী চাঁদা উত্তোলন করে ফান্ডে জমা রাখা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জেলার অন্যান্য অফিসও সাবেক কমান্ডাররা ব্যবহার করে আসছেন।
