কচুয়ায় স্ত্রী-ছেলেকে নিয়ে ভাঙা ঘরে রাত কাটে বৃদ্ধ সাত্তার মিয়ার

পুরানো কবরস্থানের জায়গায় মানবেতর জীবন

ফয়সাল আহমেদ
কচুয়া উপজেলার পাথৈর ইউনিয়নের আটোমোড় গ্রামের অধিবাসী সহায় সম্বলহীন বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তার মিয়া দীর্ঘদিন ধরে অন্যের জায়গায় একটি জরাজীর্ণ ঘরে পরিবার-পরিজন নিয়ে সীমাহীন কষ্টের মধ্যে দিয়ে বসবাস করছেন। বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তার মিয়ার আকুতি দীর্ঘদিন অন্যের জায়গায় একটি ভাঙা ও জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করায় এখন একটি সরকারি ঘর পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তার মিয়া জানান, আটোমোড় গ্রামের উত্তর পূর্বপাড়া আড়ী হাজী বাড়িতে ৪ শতাংশ পুরানো পারিবারিক কবরস্থান রয়েছে। ওই ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত পুরানো কবরস্থানের উপরেই বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্ত্রী ও ২ ছেলেকে নিয়ে বসবাস করে আসছি।
তিনি বলেন, বয়সের ভারে এখন কাজকর্ম করতে পারছি না। তবে বাড়ির পাশে তারনি বাজারে রাস্তার উপর ভ্রাম্যমাণ ছোট একটি দোকান সাজিয়ে পান-সিগারেট বিক্রি করে জীবন সংগ্রাম করে যাচ্ছি। দু’ছেলে থাকলেও তারা কর্মহীন। তাই কিছু ভূমি, একটি সরকারি ঘর অথবা ধর্ণাঢ্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় একটি ঘর পেলে বাকি জীবন আনন্দে কাটিয়ে যেতে চাই। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কচুয়ার সংসদ সদস্য ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি ও উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তিনি।
তার স্ত্রী আয়েশা বেগম বলেন, আমি স্বামী ও ছেলেদের নিয়ে খুবই কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। জমি ও ঘর না থাকায় ভাঙা ঘরে থাকার কষ্ট কাউকে বোঝাতে পারবো না। বর্তমানে যুগে কেউ কবরের উপর বসবাস করে- তাও আমার জানা নেই। আমরা এখন কী করব- তা ভেবে দিশেহারা হয়ে পড়ছি।
অন্যদিকে আটোমোড় গ্রামের অধিবাসী ডা. মোশারফ হোসেন, মো. শাহজাহান, আরব আলী জানান, বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তার মিয়া খুবই নিরীহ একজন ভূমিহীন দরিদ্র মানুষ। তাকে একটি সরকারি ঘর ও জায়গা দিয়ে সহযোগিতা করলে তার পরিবার-পরিজন উপকৃত হবে। আমাদের দাবি সরকারি-বেসরকারি যেকোনোভাবে একটি ঘর দিতে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল মিয়াজী বলেন, আব্দুস সাত্তার মিয়া খুবই নিরীহ মানুষ। বয়সের কারণে সহায় সম্বলহীন এ মানুষটি কাজ করতে পারেননি। তাকে সরকারি ঘর ও ভূমি পেতে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা হবে।
ইউপি চেয়ারম্যান আক্কাস আলী মোল্লা বলেন, নতুন করে ঘরের বরাদ্দ আসেনি। তবে আসলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাত্তার মিয়াকে ঘর দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

০৭ নভেম্বর, ২০২২।