
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকা-ের ন্যায়বিচার ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোরতম প্রয়োগ নিশ্চিতের দাবিতে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) চাঁদপুরের আয়োজনে গতকাল সোমবার বিকাল ৫টায় অঙ্গীকার পাদদেশে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এসময় সনাক সভাপতি অধ্যক্ষ মো. মোশারেফ হোসেন বলেন, বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরারকে অমানবিকভাবে হত্যা করা হয়। যা ইতিহাসের একটি নৃশংস ঘটনা। আমরা এই হত্যাকা-ের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি এই হত্যাকা-ের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী এবং বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এজন্য আমরা টিআইবি ও সনাক চাঁদপুরের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তিনি আবরার হত্যাকা-ের দৃষ্টান্তমূলক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ এবং ছাত্র আন্দোলনের গৌরবময় ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সনাকের সাবেক সভাপতি ও চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির মহাপরিচালক কাজী শাহাদাত বলেন, আবরার ফাহাদের হত্যাকা- আমাদের স্বাধীনতার উপর নিষ্ঠুরতম আঘাত। আমরা আর এ ধরনের ঘটনা দেখতে চাই না। তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীও ছাত্র রাজনীতি করেছেন। তখন এ ধরনের নৃশংস হত্যাকা- আমরা লক্ষ্য করিনি। বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্র আন্দোলনের যে গৌরব তা ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি সরকারের কাছে আহ্বান জানান। আর তা নাহলে সরকারের যে উন্নয়ন, যেভাবে দেশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তা নিমিষেই ম্লান হয়ে যাবে। তিনি আবরার ফাহাদের নৃশংসতম হত্যাকা-ের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী যে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এজন্য তিনি সনাক-টিআইবি’র পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান।
টিআইবি’র রাজন চন্দ্র দের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সনাকের সহ-সভাপতি ইসমত আরা সাফি বন্যা, মো. আব্দুল মালেক, সদস্য ডা. পীযূষ কান্তি বড়–য়া, টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার মো. মাসুদ রানা, স্বজন গ্রুপের আহ্বায়ক মির্জা জাকির, সিসিপি কমিটির সদস্য ব্যাংকার মুজিবুর রহমান, ইয়েস গ্রুপের দলনেতা জয় ঘোষ প্রমুখ।
মানববন্ধনে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ছাত্র সংগঠন ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ, সনাক চাঁদপুরের স্বজন, ইয়েস, ইয়েস ফ্রেন্ডস, বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং টিআইবির কর্মীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয় (বুয়েট) এর শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ নৃশংসতম হত্যাকা-ের শিকার হন। আবরার ফাহাদের হত্যাকা- একদিকে বাক স্বাধীনতার উপর নিষ্ঠুরতম আঘাত এবং অন্যদিকে ছাত্র সংগঠন তথা শিক্ষাঙ্গনের উপর দুর্বৃত্তায়িত অসুস্থ রাজনৈতিক প্রভাবের নিষ্ঠুর পরিণতি।
১৫ অক্টোবর, ২০১৯।
