চাঁদপুর যুবলীগের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে!

 

কেন্দ্রিয় কমিটিতে জেলার ১৩জন

ইল্শেপাড় রিপোর্ট
বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রিয় চূড়ান্ত কমিটিতে চাঁদপুরের ১৩জন রাজনৈতিক কর্মী স্থান পেয়েছেন। তাদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদকসহ ৭জন কেন্দ্রিয় কার্যনির্বাহী কমিটির বিভিন্ন পদ লাভ করেন। বাকি ৬ জন ঐ কমিটির সদস্য পদে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করেছেন। গত ১৪ নভেম্বর প্রকাশিত হয় বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের এই কমিটি। যাতে সংঘঠনটির চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত ছিলো।
কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটিতে স্থান পাওয়া চাঁদপুরের নেতারা হলেন- পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো. হারিস মিয়া শেখ সাগর (ফরিদগঞ্জ), সহ-সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শাহিন পাটোয়ারী (চাঁদপুর সদর) ও ইঞ্জিনিয়ার মো. কামরুজ্জামান (মতলব উত্তর), নির্বাহী সদস্য একেএম মহিউদ্দিন খোকা মজুমদার (ফরিদগঞ্জ), বর্ষন ইসলাম (চাঁদপুর) ও জাফর ইকবাল মুন্না (চাঁদপুর সদর)। এছাড়া সদস্য পদে আছেন- আব্দুল হাকিম তানভীর (মতলব উত্তর), মো. বাহাউদ্দিন মোল্লা বাহার (ফরিদগঞ্জ), ইঞ্জিনিয়ার মো. রাসেল মিজি (চাঁদপুর সদর), সোলাইমান মিয়া জীবন (কচুয়া), কামরুল হাসান শিপন (চাঁদপুর) ও এম ইশফাক আহসান (মতলব উত্তর)।
এদিকে গত বছরের ২৩ নভেম্বর যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেসে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যুবলীগের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক চাঁদপুরের মাইনুল হাসান খান নিখিলকে ঘোষণা দেন। প্রায় এক বছর পর কেন্দ্রিয় যুবলীগ তাদের চূড়ান্ত কমিটি ঘোষণা করতে সক্ষম হয়।
এদিকে আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রিয় কমিটিতে চাঁদপুরের ১৩জন রাজনৈতিক কর্মী স্থান পাওয়ায় এ জেলার স্থানীয় রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে চলছে দলটির অভ্যন্তরীণ সমীকরণ। যদিও চাঁদপুর জেলা যুবলীগের সম্মেলন দীর্ঘদিন ধরে হয়-হচ্ছে করে হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রিয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকসহ অপর সদস্যরা নিজ জেলার রাজনীতিতে কি ভূমিকা রাখবেন, সেদিকেই এখন দৃষ্টি- জেলার তৃণমূল কর্মীদের।
চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জেলা যুবলীগের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এই মুহূর্তে কোন কিছুই মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তারা অনেকটাই ইঙ্গিত করেছেন- সামনে চাঁদপুরের রাজনীতিতে ক্লিন ইমেজের সদস্যরাই, বিশেষ করে ছাত্রলীগের ত্যাগীদের মূল্যায়িত করা হবে যুবলীগে। এতে করে কেবল জেলা আওয়ামী লীগ’ই নয় যুবলীগের রাজনীতি আরো শক্তিশালী হবে।
বিপরীতে চাঁদপুর জেলা যুবলীগের বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরা অনেকটাই পর্যবেক্ষণের দৃষ্টিতে রাখছে কেন্দ্রিয় চূড়ান্ত কমিটিকে। তারা বলছে, জেলার ৮ উপজেলার মধ্যে শাহরাস্তি, হাইমচর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার কোন নেতাই অন্তর্ভূক্তি হয়নি কেন্দ্রিয় কমিটিতে। ফলে চাঁদপুর জেলা যুবলীগের কমিটি গঠনে কেন্দ্রের নেতাদের কেমন প্রভাব থাকবে এখন, সেই সমীকরণই করছেন তারা।
তবে চাঁদপুরের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চাঁদপুরের যারাই কেন্দ্রিয় কমিটিতে স্থান পেয়েছেন তারা প্রত্যেকেই তাদের রাজনৈতিক ত্যাগের মূূল্যায়নের ভিত্তিতেই স্থান করে নিয়েছেন স্ব-স্ব পদ। যা তাদের আগামির রাজনীতিকে সমৃদ্ধি করবে বলে আশাবাদী বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে জেলা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কমিটিতে তারা নিজদের উপস্থাপন করলেও অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।
রাজনৈতিক এমন সমীকরণের মধ্যেও বিশ্লেষকরা বলছেন, যারাই কেন্দ্রিয় কমিটিতে স্থান পেয়েছেন তারা যদি জেলার রাজনীতির পাশাপাশি উন্নায়ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখেতে সক্ষম হন, তাহলে নিজদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে সক্ষম হবেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, কেন্দ্রিয় কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতারা রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতে তৃণমূলে কাজ করতে পারলে অল্প সময়েই তারা এ জেলার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হবেন।
যা এ জেলার রাজনীতির সৌন্দর্য্যকে আরো আলোকিত করবে বলে আশা করছেন বিশ্লেষকরা। এমন পরিস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ যুবলীগের কেন্দ্রিয় এসব নেতারা নিজ জেলার অভ্যন্তরে তারা কতটা দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবেন তাই প্রত্যক্ষ করতে চায় সর্বশ্রেণির মানুষ।
তবে এমন সমীকরণের মধ্যে কেউ কেউ বলছেন, চাঁদপুরে যদি কেন্দ্রিয় যুবলীগের নেতার নিজদের উপস্থান করতে চান তাহলে তাদের সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ও কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক ডা. দীপু মনির আস্থা অর্জন করতে হবে। তাহলেই তারা নিজেদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে পারবেন জেলার তৃণমূলের রাজনীতিতে।
১৭ নভেম্বর, ২০২০।