দলের অনৈক্য সৃষ্টিকারীদের রুখে দিতে হবে

যেকোন মূল্যে দেশ বাঁচাতে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে হবে
……………মো. মিজানুর রহমান

স্টাফ রিপোর্টার
মতলব উত্তর উপজেলার আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. মিজানুর রহমান বলেছেন, দেশ বাঁচাতে যেকোন মূল্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে হবে। এজন্য দলীয় নেতাকর্মীদের ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। তবে দলের মধ্যে যারা অনৈক্য সৃষ্টি করে তাদের রুখে দিতে হবে। বিশেষ করে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঠিক পথ দেখাতে হবে।
মো. মিজানুর রহমান আরো বলেন, সামনে দুর্দিন আসছে। তখন আমাদের থাকতে হবে। ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীদের সামনের কাতারে থাকতে হবে। আগামিতে বিএনপি-জামায়াতকে মোকাবেলা করতে হলে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ সংঘবদ্ধ থাকতে হবে। দেশ বাঁচাতে হলে এবং দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তিনি আরো বলেন, রাজনীতি করতে হলে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। বিশেষ করে ছাত্রলীগের রাজনীতি করতে হলে বেশি করে ত্যাগ করতে হবে। এছাড়া ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিকভাবে আরো শিখতে হবে। রাজনীতি করতে হলে রাজনীতি বুঝতে হবে, রাজনীতি করতে হলে রাজনীতির রাস্তায় থাকতে হবে। রাজনীতি করতে হলে রাজনীতির ভাষায় কথা হবে। কিন্তু বর্তমানে কিছু দালাল শ্রেণির নেতাকর্মী ছাত্রলীগের রাজনীতিকে কুলষিত করছে।
তিনি বলেন, ১১ বছর যাবত মতলব উত্তর উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি হচ্ছে না। কিন্তু কমিটির জন্য নেতাদের পেছনে ঘুরে বেড়ালে চলবে না। নতুন নেতৃত্ব পেতে হলে স্কুল-কলেজের নেতাদের সঠিকভাবে চলতে হবে। তাদের মিটিং-মিছিল করতে হবে, অনশন করতে হবে, আন্দোলন করতে হবে। তবে মতলব উত্তর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দসহ অন্যদের উচিৎ দ্রুত উপজেলা ছাত্রলীগসহ অন্যান্য কমিটিগুলো নতুন করে দেয়া। কারণ, দীর্ঘদিন যাবত ছাত্র-ছাত্রীরা রাজনীতি করে একটা কমিটিতে থাকতে পারবে না- তা হতে পারে না।
মো. মিজানুর রহমান গত শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মতলব উত্তর উপজেলার সাবেক ছাত্রলীগ ঐক্য পরিষদ নেতাদের মতবিনিময় ও আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি আরো বলেন, মতলব উত্তর উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ১৮ বছর ও যুবলীগের কমিটি ১৯ বছর হচ্ছে না। তাহলে ছাত্রলীগের সাবেক নেতৃবৃন্দ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কিভাবে ভূমিকা রাখবে? নেতাদের মনে রাখতে হবে ছাত্রলীগ’ই আওয়ামী লীগের চালিকাশক্তি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করে পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আসেন। সাংসদসহ মতলব উত্তর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে দ্রুত উপজেলা আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নতুন কমিটি করে দিতে হবে। তাহলেই ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে দলের নেতাকর্মীরা অংশ নিতে পারবে।
তিনি বলেন, ১৯৮৫ সালে খুলনা পলিটেকনিকে ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে আমার রাজনীতি শুরু। পরবর্তীতে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের জন্য বিভিন্ন সময় কাজ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু, কিছু পেতে আমি রাজনীতি করি না। রাজনীতি করি মানুষের সেবা করার জন্য, দেশের সেবা করার জন্য। বর্তমানে দেশের উন্নয়নসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিকল্প নাই। বিশেষ করে দেশ বাঁচাতে জাতির জনকের কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিকল্প নাই। তাই, আসুন দেশের স্বার্থে, আওয়ামী লীগের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবারো আমরা ক্ষমতায় আনি।

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২।