হাজীগঞ্জে আন্তঃজেলা চোরচক্রের ৮ সদস্য আটক, ৩ সিএনজি উদ্ধার

চুরির আগে কয়েকদিন রেকি করে টার্গেটকৃত গাড়ি চুরি

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে আন্তঃজেলা (আন্তঃবিভাগ) সংঘবদ্ধ সিএনজিচালিত স্কুটার চোর চক্রের আট সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে চোরাইকৃত ৩টি স্কুটার উদ্ধার ও চোরাইকাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ-১১-৯৬৪২) জব্দ করা হয়। বুধবার (৩১ মে) দুপুরে জেলা পুলিশের এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ।
আটকরা হলেন- সিলেট জেলার বালাগঞ্জ থানার হায়দারপুর গ্রামের এনতাজ উল্যাহ বাড়ির মৃত নঈম উল্যাহর আনহার আলী (৩৫), মোঘলা বাজার থানার কাদিরপুর গ্রামের পূর্ব বাড়ির মো. শফিকুর ছেলে বিল্লাল হোসেন কালা বিল্লাল (৩৪), বিশ্বনাথ থানার হরিকলস্ গ্রামের সোনাপর আলীর ছেলে বিল্লাল হোসেন (২৪), জৈন্তাপুর থানার ডোডিক গ্রামের আব্দুল সালামের ছেলে মো. শিমুল আহম্মেদ (২৪), সিলেট জেলার গোপালগঞ্জ থানার হাজিপুর সাতগরি গ্রামের মৃত তোয়াজ উল্লাহর ছেলে আবুল বাছিত (৪০), গোয়াইঘাট থানার নয়াখেল গ্রামের মৃত শফিকুর রহমানের ছেলে মো. আলমগীর (২৬) এবং হবিগঞ্জ জেলার সদর থানার বড়বউলা গ্রামের খাঁন বাড়ির মৃত আলাউদ্দিন খাঁনের ছেলে মো. নজরুল খাঁন (২৬), বাহুবল থানার তিতারকোনা গ্রামের মিরপুর মুরব্বির বাড়ির মো. আব্দুল মালেকের ছেলে মো. সোহান মিয়া (২৪)।
জানা গেছে, গত ২৭ মে দিবাগত রাতে বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের দক্ষিণ রায়চোঁ গ্রামে জব্বার আলী মুন্সী বাড়ির শরিফের একটি সিএনজিচালিত স্কুটার চুরির ঘটনায় ২৮ মে থানায় একটি মামলা (নং-২৯) দায়ের করা হয়। ওই রাতে একই এলাকা থেকে আরো ২টি সিএনজি চুরির ঘটনা ঘটে। এরপর মামলার সূত্র ধরে কুমিল্লা, সিলেট ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায় অভিযান পরিচালনা করে সংশ্লিষ্টদের আটক করে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ।
এসময় তাদের হেফাজতে থাকা ৩টি সিএনজি উদ্ধার ও চোরাইকাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়। এদিকে চুরির আগে বেশ কয়েকদিন জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রাইভেটকার নিয়ে রেকি করে চোরচক্রের সদস্য সজলু ও উষার আলী। রেকি শেষে তারা হাজীগঞ্জে তিনটি সিএনজি টার্গেট করে। পরবর্তীতে তাদের সহযোগীদের নিয়ে সিএনজিগুলো চুরি করে নিয়ে যায়। মামলায় তাদেরও আসামি করা হয়েছে। তবে তারা পলাতক রয়েছে।
পলাতক আসামিদের আটকের চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানান পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ। সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) পঙ্কজ কুমার দে, হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দসহ জেলা ও হাজীগঞ্জ উপজেলার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, চোরামাল উদ্ধার ও চোরচক্রের সদস্যদের আটকে পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদের নির্দেশনায় ও হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দের নেতৃত্বে এসআই মো. মিসবাহুল আলম চৌধুরী, সুফল চন্দ্র সিংহ, এএসআই পলাশ মজমুদার অভিযান পরিচালনা করেন। তারা তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে চোরদের একজনের অবস্থান নিশ্চিত করেন।
এরপর গত ২৮ মে কুমিল্লা জেলার ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশের সহায়তায় আসামি আনহার আলীকে একটি সিএনজিসহ আটক করে এবং তার স্বীকারোক্তিতে চোরচক্রের অপর সদস্যদের আটক এবং অপর দুইটি সিএনজি উদ্ধার ও চোরাইকাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়। এসময় মামলার অপর দুই আসামি সজলু ও উষার আলী পালিয়ে যায়। আটক আসামিদের মধ্যে মো. নজরুল খাঁনের নামের ১০টি মামলা ও পলাতক আসামি সজলু মিয়ার নামে ৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

০১ জুন, ২০২৩।