স্টাফ রিপোর্টার
বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছাত্রলীগের খুনিদের মৃত্যুদণ্ড দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন চাঁদপুর জেলা শাখা। গতকাল বুধবার বিকাল ৩টায় বাইতুল আমিন শপথ চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি শেখ মুহাম্মদ জয়নাল আবেদিন।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে যেকোন হত্যাকাণ্ডের পর নিহত ব্যক্তির কল্পিত রাজনৈতিক পরিচয়কে সামনে এনে পশুসুলভ হত্যাকাণ্ডকেও নৈতিকভাবে সমর্থন করা হয়। আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডকেও এরূপ নৈতিক সমর্থন দেয়ার অপচেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আজ জাতির সামনে প্রকাশ্য দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট যে, এই হত্যাকাণ্ড ছিল বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের পরিকল্পিত একটি হত্যাকাণ্ড। ছাত্রলীগের লাগাম এখনই টেনে না ধরলে এরা বাংলাদেশের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জেলা সভাপতি মুহাম্মদ নেছার উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ সেলিম হোসাইনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সেক্রেটারি খান মুহাম্মদ ইয়াসিন রাশেদ সানী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাও. বেলাল হোসাইন রাজি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজামাল গাজী সোহাগ, অর্থ সম্পাদক আলহাজ মামুনুর রশিদ বেলাল, ইসলামী যুব আন্দোলন জেলা সভাপতি মাও. হেলাল আহমাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর শহর সভাপতি মুফতি আবু নাঈম মুহাম্মদ তানভীর।
আরো বক্তব্য রাখেন ইশা ছাত্র আন্দোলন চাঁদপুর জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ আবুল বাশার, অর্থ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম, আলিয়া মাদ্রাসা বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ শাহজালাল, ফরিদগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মুহাম্মদ ওমর ফারুক আজাদ, সদর উপজেলা সভাপতি মুহাম্মদ রাকিব হোসেন, হাজিগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে এদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ শিক্ষার্থী ও তাদের স্বজনরা ক্যাম্পাসকে অনিরাপদ মনে করছে। এতে অনেক মেধাবীরা উচ্চশিক্ষার জন্য নিজ এলাকা ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসতে পরিবার থেকে সাপোর্ট পাবেনা। কারণ, কোন বাবা-মা কখনও চিন্তাও করেন না তার সন্তান উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরে আসুক। সুতরাং শিক্ষাঙ্গনে এই ভীতির সঞ্চার করে ছাত্রলীগ বাস্তবিক অর্থে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে স্থবির করে দিতে চায়। এর দায় কখনো ক্ষমতাসীন দল এড়াতে পারে না। আমরা আশা করবো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হবে।
বক্তব্য শেষে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে মিছিল করে বিপণীবাগ জেলা কার্যালয়ের সামনে আবরারের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ করা হয়।
১০ অক্টোবর, ২০১৯।
