বিএনপি-জামায়াতকে কোন প্রকার সহিংসতা করতে দেয়া হবে না
…….শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি
আহসান হাবীব সুমন
আগামি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস-নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রমূলক অপরাজনীতির প্রতিবাদে কচুয়ায় আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার বিকালে উপজেলার সাচার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সাচার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আয়োজনে শান্তি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি চিহ্নিত চক্র দেশের শান্তি বিনষ্ট ও অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়। কর্মসূচির নামে বিভিন্ন প্রকার অযৌক্তিক দাবি নিয়ে বিএনপি যাতে সহিংসতা করে জনগণের জানমালের ক্ষতি না করতে পারে সেজন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। ২০২৪ সালে নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা আনার জন্য সবাইকে অনুরোধ করেন। শান্তি সমাবেশের মাধ্যমে সরকারের সব উন্নয়নের বার্তা জনগণের মাঝে পৌঁছে দিতে দলীয় নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান তিনি।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মিন্নত আলী তালুকদারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি। তিনি বলেন, বিএনপি মানে বেঈমান-নাফরমান। এই বেঈমান-নাফরমানদের এই কচুয়ায় এবং বাংলাদেশে স্থান হতে পারে না। বেঈমান-নাফরমানদের এই বাংলাদেশের কোন আশংকা সৃষ্টি করা কিংবা শান্তি বিনষ্ট করতে আমরা দিবো না। শান্তি সমাবেশের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়নের বার্তা কচুয়ার বিভিন্ন স্তরের মানুষের মাঝে পৌঁছে দিতে হবে।
সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, যারা অতীতে ক্ষমতায় ছিলো এবং ক্ষমতায় আসতো তারা তাদের আখের গুছানোর জন্য, ক্ষমতা প্রয়োগ করার জন্য, অত্যাচার করার জন্য, তাদের নিজেদের ভালো থাকার জন্য, পাঁচ বছরের জন্য। আর শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসছেন পাঁচ বছর দশ বছরের জন্য নয়, তিনি এসেছেন বাংলাদেশের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের জন্য, ১০০ বছরের জন্য। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মরা যাতে ভালো থাকে তার জন্য। ২১০০ সালের পরিকল্পনা ডেল্টা প্ল্যান এই বাংলাদেশকে চিরস্থায়ী করার জন্য এই উন্নয়নকে টেকসই করার জন্য তিনি ১শ’ বছরের পরিকল্পনা নিয়েছেন। পৃথিবীর খুব কম রাষ্ট্রই ১শ’ বছরের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেনি। তিনি শুধু পরিকল্পনা গ্রহণ করেননি, তিনি সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, অর্থায়ন করেছেন। হাজার হাজার কোটি, লক্ষ-লক্ষ টাকা দিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ সরকার আবার ক্ষমতায় আসবেন। রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। লক্ষ্য ২০৪১ বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে পরিণত করা। তিনি যেই স্মার্ট বাংলাদেশের কথা বলেছেন আমাদের সবাইকে ছাত্র শিক্ষক চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শ্রমিক-কর্মচারী সবাইকে স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে কাজ করতে হবে। বিএনপি-জামায়াতদের বিরুদ্ধে সবসময় আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরের শাহবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি জিএম আতিকুর রহমান, কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শাহজাহান শিশির ও সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন সোহাগ চৌধুরী, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল, কচুয়া পৌর মেয়র নাজমুল আলম স্বপন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাচ্ছেল খান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইঞ্জি. ইব্রাহীম খলিল বাদল। একই দিনে কচুয়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে অনুরূপ শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩।
