স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুরে পারিবারিক কলহের কারণে একটি কিন্ডারগার্টেনের অধ্যক্ষ মো. মাহাতাব উদ্দিন খান (৩৮) নামে এক যুবক চাঁদপুর-চট্টগ্রামের মধ্যে চলাচলকারী মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে পড়ে আত্যহত্যা করেছে।
নিহত যুবকের শতাধিক সহকর্মীরা নিহতের অভিভাবককে এ আত্যহত্যার জন্য দায়ী করে তাদের বাসায় গিয়ে হট্টগোল সৃষ্টি করে। তারা অভিভাবকের বিচার দাবি করছে। তা’ নাহলে তারা লাশ দাফন করতে দিবে না বলেও হুমকি-ধমকিও দেয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহতের বাড়িতে রেলওয়ে থানার ব্যাপক পুলিশ অবস্থান করছে এবং ঘটনাটি সমাধানে ও পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চলছে।
ঘটনাটি শুক্রবার (২৭ আগস্ট) রাত পৌনে ১০টায় শহরের ওয়ারলেস মুন্সিবাড়ি এলাকায় ঘটলেও চাঁদপুর রেলওয়ে থানার পুলিশ গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় জানতে পারে। পরে রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মুরাদ উল্যাহ্ বাহারের নেতৃত্বে পুলিশ অজ্ঞাতনামা লাশটি উদ্ধার করে রেলওয়ে থানায় নিয়ে যায়।
পরে লাশের ফিংগার প্রিন্ট নিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নিহত যুবকের পরিচয় জানতে পারে। তার বাবা শহরের পুরানবাজার নূরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নূর হোসেন। বাসা শহরের বিষ্ণুদী রোড এলাকায়। সে শহরের ব্যাংক কলোনী সানফ্লাওয়ার কিন্ডারগার্টেনের অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত ছিল।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মুরাদ উল্যাহ্ বাহার জানান, আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ফোর্সসহ নিহত যুবকের লাশ উদ্বার করে থানায় নিয়ে আসি। নিহত যুবকের প্রথমে পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরে লাশের ফিংগার প্রিন্ট নিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নিহত যুবকের পরিচয় জানতে পারি। লাশের সুরতহাল হয়েছে। এখন ময়নাতদন্ত শেষে লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরবর্তীতে এ ঘটনাটি ব্যাপক তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। তবে এ মৃত্যুটির অনেক রহস্য বের হয়ে আসছে। পরবর্তীতে তা’ জানানো হবে।
এ ঘটনায় চাঁদপুর রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্ট শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিহত যুবকের অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
২৯ আগস্ট, ২০২১।
