স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করি
……….শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি
এস এম সোহেল
‘এসো মিলি মুক্তির মোহনায়’ এ স্লোগানে মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার উদ্বোধন হয়েছে। শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) চাঁদপুর আউটার স্টেডিয়ামে বিকেল ৪টায় জাতীয়, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী এবং মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার প্রধান উপদেষ্টা ডা. দীপু মনি এমপি।
পরে বিজয় মেলা মঞ্চে উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, আমরা সবাই মিলে যে স্বাধীনতা ভোগ করি, সে স্বাধীনতা বীর বাঙালি ছিনিয়ে এনেছিলেন জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে এবং নিজের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। যে জাতি ছিল নিরস্ত্র এবং যুদ্ধা নয়- এই পরিচয় ছিল তাদের। জাতির পিতার ডাকে যার যা কিছু আছে তা নিয়ে সশস্ত্র বাঙালিতে পরিণত হয়েছিল এবং সেই বীর বাঙালি একটি প্রশিক্ষিত এবং আধুনিক অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সেদিন দেশের সর্বত্র পরাজিত করেছিল।
তিনি আরো বলেন, সেই পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসরেরা এই মাসে অর্থাৎ ১৬ ডিসেম্বর আজকে যেটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, যেটি সে সময় ছিল রেসকোর্স ময়দান- সেই রেসকোর্স ময়দানে অপরাহ্নে তারা সেদিন আত্মসর্ম্পণ করেছিল। আজ সেই স্বাধীনতার ৫২ বছর পার হয়ে যাওয়ার পর আমরা সেইসব মানুষকে গভীরভাবে স্মরণ করতে চাই, যারা এই বাঙালি জাতির ইতিহাসের বিভিন্ন বাঁকে বিভিন্ন পর্যায়ে অবদান, ত্যাগ স্বীকার ও জাতির সম্মান অক্ষুণ্ন রাখতে জীবন বাজি রেখেছেন।
বিজয় মেলা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি এই মেলা গৌরব ও গর্বের বিষয়। এইরকম মাসব্যাপী বিজয় মেলা কিন্তু দেশের সব জেলায় হয় না। চাঁদপুরে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানরা তাদের উদ্যোগে এই বিজয় মেলা এখন একটি ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। এজন্য আয়োজকদের কাছে আমার কৃতজ্ঞতা জানাই।
তিনি বলেন, আজ এখানে নতুন প্রজন্মের অনেকে আছে। আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই- আমরা যেন প্রতি মুহূর্তে মনে রাখি আমরা আজ স্বাধীন দেশে নির্ভয়ে নিঃশ^াস নিতে পারি, একজন স্বাধীন মানুষ হিসেবে আমরা চলতে পারি, আমরা নতুন স্বপ্ন দেখতে পারি প্রতিদিন, স্বাধীনতা আমাদের এই শক্তি, সাহস, স্বপ্ন ও সবকিছু দিয়েছে। সেই স্বাধীনতার যে মূল চেতনা, সেই চেতনা যেন প্রতি মুহূর্তে ধারণ করি। সেই চেতনা হচ্ছে একটি অগ্রসর চিন্তা। এই দেশটি হবে অসম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক দেশ। এই দেশে সব সম্প্রদায়ের মানুষ ধর্ম-বর্ণ, জাতি স্বত্বা নির্বিশেষে সবাই সমান মানবিক মর্যাদা নিয়ে, নাগরিক সমান অধিকার নিয়ে তারা সবাই বাস করবে। এই দেশের প্রতিটি মানুষের চিন্তার স্বাধীনতা থাকবে, নিজের মত ও ধর্ম ধারণ ও প্রচার করবার তার স্বাধীনতা থাকবে। এই দেশে কেউ কারো ওপর নিজের মতকে চাপিয়ে দিবে না। গণতন্ত্র আমরা সত্যি সত্যি বিশ^াস করবো এবং তাকে কার্যকর করবো।
ডা. দীপু মনি আরো বলেন, যার নেতৃত্বে আজ মুক্তিযুদ্ধের এই চেতনাগুলো ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি আজকে আমি এই মঞ্চ থেকে সেই মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। যিনি দীর্ঘ ৪২ বছর আমাদের নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন, কখনো তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেত্রী, সংগ্রামী নেতা হিসেবে এবং জাতির পিতার গর্বিত সন্তান হিসেবে কাজ করছেন। বীর জাতির সেই বীর কন্যা দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। তার কারণে আজ আমরা সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে এবং স্বাধীনতার চেতনাকে বুকে ধারণ করে বিশে^ মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছি। আজ সারা বিশে^ কেউ আমাদের দেখে সম্মানের চোখে। আর বাকি যারা সম্মানের কথা বলতে পারে না তারা ঈর্শার চোখে দেখে। আমাদের যারই ঈর্শার চোখে দেখে সেটিও কিন্তু আমাদের গর্বের জায়গা। আর এই গর্বের জায়গাটি সফল নেতৃত্বের মাধ্যমে তৈরী করে দিয়েছেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা তার ছাত্র জীবনের রাজনীতিই নয়, বাবা-মাকে তিনি যেমন দেখেছেন, মানুষের জন্য ভালোবাসা নিয়ে ত্যাগ স্বীকার করে, জীবনকে বাজি রেখে দেশ সেবায় নিয়োজিত থাকতেন। তিনি যখন বাবা-মা, বাই-বোন সকলকে হারিয়েছেন, ছয় বছর প্রবাসে নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছেন, তারপরেও ফিরে এসেছেন দেশ ও দেশের মানুষ এবং পিতার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করবার জন্য। তিনি সেই মুহূর্ত থেকে গত ৪২ বছর নিরন্তর তিনি কাজ করে চলেছেন। আমাদের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক।
মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আমাদের তরী বিড়িয়ে দিবেন, আমাদের কাক্সিক্ষত সেই বন্দরে। সেটি আমাদের সবার প্রত্যাশা। তাহলে আজকের যে তরুণ প্রজন্ম যাদের জন্য তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন তৈরী করে দিয়েছেন। যে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে সমস্ত তরুণদের আহ্বান জানিয়েছেন, তিনি তাদের জন্য পরিবেশ ও কাজের সুযোগ, শিক্ষার সুযোগ সমস্তু কিছু তৈরী করে দিয়েছেন। আজ প্রতিটি মানুষ, নারী-পুরুষ, যে কোন বয়সী মানুষের জীবন নিয়ে চলবার সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। আসুন আমরা সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়বার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করি।
বিজয় মেলার স্টিয়ারিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমানের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব হারুন আল রশীদের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ ওসমান গনি পাটওয়ারী, পৌর মেয়র মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কামান্ড কাউন্সিল জেলা শাখার সভাপতি অ্যাড. জাফর ইকবাল মুন্না।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মাও. এএইচএম আহসান উল্যাহ, গীতা পাঠ করেন গণসংগীত শিল্পী মনোজ আযার্চী ও ত্রিপিটক পাঠ করেন ডা. পীযুষ কান্তি বড়ুয়া।
এসময় উপস্থিত ছিলেন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা. জেআর ওয়াদুদ টিপু, ফরিদগঞ্জ পৌর মেয়র মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী, চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহকারী কমান্ডার ইয়াকুব আলী মাস্টার, চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী এরশ্বাদ মিয়াজী, চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বেপারী, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যাপিকা মাসুদা নুর খান, জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মাহফুজুর রহমান টুটুল, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জহির উদ্দিন মিজিসহ আরো অনেকে।
উল্লেখ্য, মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলায় প্রায় দেড় শতাধিক স্টল স্থান পায়। যেখানে দেশি-বিদেশী বিভিন্ন সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়। এছাড়া মেলায় আগতদের জন্যে বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়। মা ও শিশুদের জন্যে বিশেষ রয়েছে ফিডিং রুম স্থাপন করা হয়। এছাড়া জনসাধারণের সুরক্ষায় পুলিশ বাহিনীসহ বিশেষ টিম উপস্থিত থাকবে এবং অপ্রীতিকর দুর্ঘটনা এড়াতে থাকবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স যন্ত্রাংশ রাখার ব্যবস্থা করা হয়।
০৯ ডিসেম্বর, ২০২৩।
