
স্টাফ রিপোর্টার
বন্ধ নেই মা ইলিশ নিধন। ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনব্যাপী চাঁদপুরের ষাটনল থেকে চর-আলেকজান্ডার পর্যন্ত ১শ কিলোমিটার এলাকায় নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা সরকার নিষিদ্ধ করার পরও অসাধু জেলেরা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নদীতে অবৈধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে মা ইলিশ নিধন করছে।
গতকাল সোমবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওলিদুজ্জামানের নেতৃত্বে কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার লে. ফয়সাল বিন রশিদের নেতৃত্বে কোস্টগার্ড সদস্যরা ভোর রাত ৫টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত একটানা ৫ ঘণ্টা মেঘনা নদীর বহরিয়া ও হরিণা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় নদীতে ফেলা অবস্থায় প্রায় ৩ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও প্রায় ৫০ কেজি পরিমাণের মা ইলিশ জব্ধ করেছে। একই সাথে ৯ জেলেকে আটক করা হয়।
আটক মো. ফরহাদ (১০) নাবালক হওয়ায় তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। অপর জেলে পুরাণবাজারের রাজিব (২২) কে ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেয়া হয়েছে। গত কয়েকদিন আগে তার বাবা মারা যায় এবং সে সদ্য বিবাহিত হওয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অলিদুজ্জামান মানবিক বিবেচনা করে তাকে অর্থদ- করেন। অপর আটক সিকদার কান্দির নিয়ামত মিজি (১৯), বহরিয়ার শহীদ গাজী (২৫), আরিফ গাজী (১৮), রামদাসদীর ফয়েজ পাটওয়ারী (২০), রাজরাজশ্বরের শাকিল (১৮), মোক্তার হোসেন (১৮) শাহরুপ হোসেন (২০) কে ১ বছর করে বিনাশ্রম কারাদ- দেয়া হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অলিদুজ্জামান জানান, আমরা ভোর থেকে মেঘনা মোহনা হয়ে রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের পদ্মা নদীতে অভিযান চালাই। এ সময় জেলেরা নদীতে ফেলে যাওয়া কারেন্ট জালে আটকানো মা ইলিশসহ জালগুলো জব্দ করে কোস্টগার্ড স্টেশনে নিয়ে আসি। জব্দ করা মাছগুলো আমরা বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করেছি।
অপরদিকে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ইউএনও সাবরিন চৌধুরী ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে আটক আরো ৫ জেলেকে ১ মাসের কারাদ- প্রদান করেন। আটকরা হলো- রহিম বাদশা (১৫), খোরশেদ (২২), জাহাঙ্গীর (৩৫), খোরশেদ ( ৩০) ও সুমন (২২)।
জানা যায়, রায়পুর উপজেলার মেঘনা নদীতে মা ইলিশ নিধনকালে কোস্টগার্ড তাদের আটক করে।
১৫ অক্টোবর, ২০১৯।
