পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অসহায় বিআইডব্লিউটিএ
ইল্শেপাড় রিপোর্ট
চাঁদপুর নদীবন্দর খ্যাত লঞ্চ টার্মিনালে কোন অবস্থাতেই শৃঙ্খলা ফিরছে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অনেকটাই অসহায় হয়ে পরছে সংশ্লিষ্ট বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি উত্তরণে জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে কিছু
সময়ের জন্য পরিস্থিতি সামান্য উন্নয়ন হলেও দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হচ্ছে না বলে বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে। বর্তমানে অবস্থা অনেকটাই নাজুক হওয়ায় তারা চাঁদপুর মডেল থানা ও নৌ-পুলিশের সহায়তা চেয়েছে। এজন্য বিআইডব্লিউটিএ সংশ্লিষ্টদের চিঠিও দিয়েছে।
ভুক্তভোগী যাত্রী ও স্থানীয়রা বলছে, নৌ-টার্মিনালে এমন ভোগান্তির পেছনে রয়েছে সিএনজি ও অটো চালকদের সমন্বয়হীনতা। এছাড়া হকারদের দৌরাত্ম্যের সাথে রয়েছে ইজারাদারদের কথিত লোকজনের মালামাল টানাটানির মতো নৈরাজ্যমূলক হয়রানি ও ইচ্ছামতো অর্থ আদায়ের কৌশল। তবে পন্টুনের উপরে যেমন প্রভাব বিস্তার পুরোনা নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, ঠিক তেমনি সিএনজি ও অটো স্ট্যান্ডেও আরো তুঘলগী কাণ্ড-কারখানার অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি সিএনজি ও অটো চালকদের কাছ থেকে ঘাটের টোল আদায়ের নামে কৃত্রিম যানজট তৈরি করছে একটি চিহ্নিত মহল। কোন নীতিমালা ছাড়াই একটি মহল চালকদের কাছ থেকে টোল আদায় করছে। আবার এসব টোল আদায়ের জন্য নেই কোন রিসিট। চালকরা বলছে, যেসব যাত্রী টার্মিনাল ব্যবহার করে ইন-আউট হচ্ছে তারা প্রত্যেকেই নির্ধারিত ১০ টাকা টোল দিচ্ছে। পাশাপাশি তারা মাল কিংবা কোন পণ্য পরিবহন করলেও টোল পরিশোধ করছে। তাহলে অটো কিংবা সিএনজি থেকে কেন টোল আদায় হয় তা খোদ আদায়কারীরাও বলতে পারছে না।
দীর্ঘদিন ধরে এমন নৈরাজ্যমূলক পরিস্থিতি বিরাজ করলেও পরিস্থিতি উন্নায়নে সংশ্লিষ্টরা কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় খেটে-খাওয়া সাধারণ অটো কিংবা সিএনজি চালকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছে। তারা তাদের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আবার যাত্রীদের সাথে দর কষাকষি করতে গিয়ে অনেক সময় অশোভন আচরণও করে থাকে। এতে করে সাধারণ যাত্রীরা বিব্রতকর অবস্থায় হয়ে পরে।
এদিকে বিআইডব্লিউটিএ তাদের ঐ ঠিঠিতে দাবি করে, চাঁদপুর নদী বন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন লঞ্চ টার্মিনাল ব্যবহারকারী যাত্রী সাধারণের অবাধ ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার জন্য একান্ত সহযোগিতা প্রয়োজন। তাদের মতে এই নদী বন্দরটি অভ্যন্তরীণ যাত্রী পরিবহনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতিদিন গড়ে ২৫ হাজার যাত্রী সাধারণ যাতায়াত করে থাকে। এছাড়া ঈদ ও অন্যান্য উৎসবে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ যাত্রী বৃদ্ধি পায়। যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার জন্য বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আধুনিক নৌ-টার্মিনাল নির্মাণের ডিজাইন চলমান রয়েছে।
বর্তমান অবকাঠামো সুবিধা ব্যবহার করে যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ছে। হকার ও ভাসমান লোকজান এলোমেলো ও বিশৃঙ্খলভাবে পন্টুনে অবস্থান করায় যাত্রীদের অবাধ ও নিরাপদ যাতায়াত চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
পাশাপাশি সিএনজি ও অটোরিক্সার চালকগণকে লঞ্চে উঠে যাত্রী সাধারণকে ডাকাডাকি এবং উশৃঙ্খল আচরণের কারণে যাত্রী সাধারণের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এছাড়া কতিপয় চালকরা নারী যাত্রীদের সাথে অশালীন আচরণ করে আসছে। জেলার আইন-শৃঙ্খলা সভার সিদ্ধান্তমতে সিএনজি-অটোরিক্সা চালকদের বাধ্যতামূলক ইউনিফর্ম পরিধানের পদক্ষেপটি বাস্তবায়ন হয়নি এখনো।
এ অবস্থায় নিরাপদ যাতায়াতসহ নারী যাত্রীদের সম্মান সমুন্নত রাখার জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ আবশ্যক হয়ে পরছে বলে পত্রে উল্লেখ করেন চাঁদপুর নদী বন্দর ও বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-পরিচালক একেএম কায়সারুল ইসলাম। এই চিঠি সংশ্লিষ্টদের প্রেরণ করেন গত ১১ মার্চ।
চলমান পরিস্থিতি উন্নায়নে আসন্ন রমজানের আগেই স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন যাত্রীসহ সর্বসাধারণ। এজন্য চালকদের ইউনিফর্ম ও টোল আদায়ের মতো নৈরাজ্য প্রতিরোধে মনিটরিং সেল গঠনের দাবি জানিয়েছেন অনেকেই। এখন দেখার অপেক্ষা সংশ্লিষ্টরা শেষ পর্যন্ত কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
২৫ মার্চ, ২০২১।
