থানায় অভিযোগ ও মানববন্ধন
মানিক দাস
চাঁদপুর সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের মধ্য বাখরপুর গ্রামে অসহায় এক দরিদ্র পরিবারের তরুণীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রভাবশালী পরিবারের এক যুবক তার ইজ্জত লুণ্ঠন করেছেন। ওই তরুণী ইতোমধ্যে একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছে। শিশুটির বর্তমান বয়স ২৩ দিন। কুমারী ওই মা স্বামীর অধিকার পেতে আইনী সহায়তা চেয়ে চাঁদপুর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে ওই তরুণীর পক্ষের লোকজন ও গ্রামবাসী চাঁদপুর মডেল থানা প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেছে। তবে মানববন্ধনের বিষয়টি পুলিশ টের পায়নি।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, চান্দ্রা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মধ্য বাখরপুর গ্রামের মাঝি বাড়ির মো. বিল্লাল হোসেন মাঝির বড় মেয়ে মিলি আক্তার (১৫) মধ্য বাখরপুর মরহুম ক্বারী রুস্তম আলীর দাখিল মাদরাসায় নবম শ্রেণিতে পড়ালেখা করত। মাদরাসায় আসা-যাওয়ার পথে একই এলাকার বেপারী বাড়ির আবুল কাশেম বেপারীর মেঝো ছেলে আল-আমিন বেপারী (২৫) মিলিকে উত্ত্যক্ত করতো। প্রায় সময় তাকে মাদরাসায় আসা যাওয়ার পথে প্রেমের প্রস্তাব দিত। বখাটে আল-আমিনের হাত থেকে বাঁচতে মিলি তার প্রেমে সাড়া দেয়। মিলির এই সরলতার সুযোগ নিয়ে আল-আমিন তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ইজ্জত হনন করে বলে মিলির বাবা বিল্লাল মাঝি জানান। এরই মধ্যে মিলি অন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে পড়ে। ২৩ দিন আগে ১ নভেম্বর মিলি একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার কথা জানতে পেরে আল-আমিন গাঢাকা দিয়েছে।
এদিকে অসহায় কুমারী মা মিলি আল-আমিনের কাছে স্বামীর অধিকার পেতে বেশ কয়েকবার সালিস বৈঠক ডাকে। কিন্তু মিলির পরিবার সালিসে উপস্থিত হলেও আল-আমিনের পরিবার উপস্থিত হয়নি। গত ১৬ নভেম্বর মিলি আক্তার নিজে বাদী হয়ে চাঁদপুর মডেল থানায় আল-আমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। গত ২১ নভেম্বর চান্দ্রা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খান জাহান আলী কালু পাটওয়ারী বিষয়টি মীমাংসার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে ডাকেন। মিলির পরিবার ইউপি কার্যালয়ে উপস্থিত হলেও অভিযুক্ত আল-আমিন ও তার পরিবার উপস্থিত হননি।
চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ইবরাহিম খলিল জানান, চান্দ্রায় এক অসহায় তরুণীর সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তার ইজ্জত কেড়ে নিয়েছে এক যুবক। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ জানিয়েছে। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুরাণবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমি বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে। তবে বিবাদী পক্ষ বলছে অভিযুক্ত আল-আমিন একা এই ঘটনা ঘটায়নি। তার সাথে অন্য যুবকও রয়েছে। কিন্তু ভিকটিম অভিযোগ করেছে আল-আমিনের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক। আর বিয়ের প্রলোভন দিয়ে আল-আমিন তার ইজ্জত জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়েছে। যার ফলে এখন তার এই অবস্থা।
স্থানীয়রা জানায়, কাশেম বেপারীর ছেলে আল-আমিন বেপারী ও তার ভাইয়েরা এলাকায় চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারী। তারা এলাকায় নানা ধরনের অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। আল-আমিন এক সময় রাজমিস্ত্রির কাজ করত। তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য বর্তমানে বিদেশে থাকায় টাকার দাপট দেখিয়ে এলাকায় নানা ধরনের অপরাধ করে যাচ্ছে। আমরা চাই অসহায় এই মিলিকে যেন আল-আমিন স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে থাকে। অন্যথায় মিলি যেন আইনের মাধ্যমে সঠিক বিচার পায় সেই জন্যই আমরা চাঁদপুর মডেল থানার সামনে মানববন্ধন করছি।
তারা আরো জানায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ দায়েরের পর তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে আল-আমিনের পিতা কাশেম বেপারীকে আটক করে। আপোষ মিমাংসার কথা বলে মুচলেকা দিয়ে কাশেম বেপারী পুলিশের হাত থেকে রক্ষা পায়। বর্তমানে তারা মিলির পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।
