জাটকা রক্ষা কার্যক্রমে জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভা

অভিযানের সময় নদীতে নামলেই আইনী ব্যবস্থা
………..জেলা প্রশাসক বেগম অঞ্জনা খান মজলিশ

শাহ্ আলম খান
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক বেগম অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, আমাদের জেলেরা বড় ধরনের অপরাধী নয়। তারা ভুল করে নিষিদ্ধ সময়ে (অভিযানের সময়) মাছ ধরে থাকে। এ সময় জাটকা ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকলে কি কি সুবিধা পাবে তা তাদের ভালোভাবে বুঝাতে হবে। আমরা সবসময়ই জেলেদের স্বার্থে তথা বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থেই কাজ করে যাচ্ছি।
গত বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে জাটকা রক্ষা কার্যক্রমে জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলেদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামি নভেম্বর মাসের মধ্যে নতুন করে জেলেদের হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। সে তালিকায় যেন মৃত জেলে বা পেশা পরিবর্তন করা জেলের নাম না থাকে। যেন জেলেদের বাইরে অন্য কেউ বরাদ্দকৃত চাল না পায়। আমি সবসময়ই জেলেদের পক্ষে। তবে দুর্বত্ত জেলেদের পক্ষে নেই। একটা জেলে ভুল করে অভিযানের সময় যখন নদীতে নামে তখন তাকে আইনের ব্যবস্থায় আনা হয়। আর একটি জেলে যখন জেলহাজতে যায় তখন তার পুরো পরিবারই সেই শাস্তি ভোগ করে। তাই তাদের ভালো করে বুঝিয়ে দিতে হবে। যেন অভিযানের সময় নদীতে নামলেই আইনী ব্যবস্থায় আনা হবে।
বেগম অঞ্জনা খান মজলিশ আরো বলেন, কোন একটা কাজ করতে প্রথমেই প্রচারণার দরকার পড়ে। সেই প্রচারণার প্রচেষ্টা আগেই করতে হবে। বড় ধরনের কার্যক্রম করতে গেলে পরিকল্পনার দরকার পরে পর্যালোচনা করে আমরা সে ধরনের একটি অ্যাকশন পরিকল্পনা করবো। জাতীয় সম্পদ রক্ষায় সমন্বিতভাবে এক হয়ে কাজ করতে হবে। অভিযান চলাকালীন সময়ে নদীপথে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকবে।
জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ করে জেলা প্রশাসক বলেন, সদিচ্ছা সবচেয়ে বড় জিনিস। ইচ্ছা থাকতে হবে যেন কাউকে যেন জাটকা ধরতে না দেয়া হয়। এ কার্যক্রমে আপনাদের সহায়তা অনেক দরকার। জেলেদের সচেতন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, নৌ-পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন শিকদার, কোস্টগার্ডের প্রতিনিধি মো. আসাদ, প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, হাইমচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটওয়ারী, রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজি হযরত আলী বেপারী, আলগী দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জলিল মাস্টার, জেলা আওয়ামী মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মালেক দেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক মানিক দেওয়ান প্রমুখ।
এজেন্ডাভিত্তিক আলোচনা করেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা শাহনাজ স্মৃতি, ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাহী অফিসার শিউলি হরি, হাইমচর উপজেলা পরিষদ নির্বাহী অফিসার চাই থোয়াইহলা চৌধুরী, কচুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাহী অফিসার দিপায়ন দাস, মতলব দক্ষিণের উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুশরাত শারমিনসহ সংশ্লিষ্ট টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যবৃন্দ।
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১।