ঢাকাস্থ চাঁদপুর সদর উপজেলা সমিতির কার্যালয় উদ্বোধন

চাঁদপুরকে নিয়ে প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখি এবং বাস্তবায়নের জন্য ছুটে চলি
                                              —————ডা. দীপু মনি এমপি
স্টাফ রিপোর্টার
আগামির চাঁদপুরকে একটি আধুনিক শহরে রূপান্তর করতে চান চাঁদপুর মাটি ও মানুষের নেতা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান পররাষ্ট্র সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও চাঁদপুর সদর উপজেলা সমিতির প্রধান উপদেষ্টা ডা. দীপু মনি। গত শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকাস্থ চাঁদপুর সদর উপজেলা সমিতির কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই স্বপ্নের কথা বলেন তিনি।
সংগঠনের সভাপতি মুকুল আনোয়ারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান রোকনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আব্দুর রব হাওলাদার, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনিসুর রহমান, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মাকসুদুর রহমান পাটোয়ায়ী, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. তাজুল ইসলাম, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল কালাম আজাদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আক্তার হোসেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব আব্দুর রহিম খান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুর রহমান শামস, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং আইন কমিশনের সচিব মো. আলী আকবর, ঢাকা নারী ও শিশু জেলা ও দায়রা জজ মো. মজিবুর রহমান, নিউ অটো গ্যালাক্সির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম আলম, সমিতির সহ-সভাপতি মোরশেদা নাসির বেবী, আইন বিষয়ক সম্পাদক মনির পাটওয়ারী, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আহসানুল হক টিটু। অনুষ্ঠানে সমিতির অন্যান্য সদস্যসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ডা. দীপু মনি বলেন, আমি চাঁদপুরকে নিয়ে প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখি এবং স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য ছুটে চলি। আমি আগে যে স্বপ্ন দেখতাম সেই স্বপ্নের কিছুটা বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। আশা করছি আল্লাহ যদি আগামিতে আমাকে আবার সুযোগ দেয়, তাহলে বাকি স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করবো। আমি চাঁদপুরের মানুষের জন্য সেখানেই কর্মকসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। আমাদের চাঁদপুরে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে। এই অঞ্চলের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত হলে চাঁদপুরের মানুষের আগামিতে অন্য কোনো এলাকায় চাকরির জন্য যেতে হবে না। চাঁদপুরে একটি পর্যটন এরিয়া করার স্বপ্ন দেখেন তিনি। এই অঞ্চলের মধ্যে তিন নদীর মিলন স্থল, ১৯ কিলোমিটার নদীর পারজুড়ে মেরিন ড্রাইভ, এসবি খাল, রাজার খালগুলো নিয়ে ঢাকার হাতির ঝিলের মতো একটি লেক করতে চাই। চরাঞ্চলের লোকদের জন্য ১০ থেকে ১৫ বেডের একটি ভাসমান হাসপাতাল করতে চাই।
তিনি বলেন, চাঁদপুরে একটি ভাসমান মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর বানাতে চাই। এই জন্য চিঠি চলাচলি চলছে। ইতোমধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের মহাপরিচালকসহ এ সংক্রান্ত অনেকের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। এজন্য নারায়নগঞ্জে একটি জাহাজ আছে, সেটি দিয়ে একটি ভাসমান মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর করতে চাই। উচ্চ শিক্ষার প্রসঙ্গে কাজ করতে চান তিনি। এই জন্য চাঁদপুরে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় স্থাপন করতে চান। কৃষকদের ভালো রাখার চিন্তা কওে সেখানে একটি ভালো মানের কোল্ড স্টোরেজ ও ফুড প্রসেসিং কারখানা করার স্বপ্ন দেখেন। করতে চান শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের জন্য আলাদা পার্ক। যেখানে তাদের জন্য থাকবে পৃথক খেলাধুলার জায়গা, ব্যায়াম থেকে শুরু করে সব ধরনের সুবিধা। করতে চাই একটি হাইটেক পার্ক। এজন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের কাছে একটি ডিইও পত্রও দেয়া হয়েছে। নিজের ইউনিয়নে পাওয়া পুরোনো মসজিদ ও পুরাণবাজারের ঐতিহাসিক মসজিদ নিয়ে রয়েছে অনেক বড় পরিকল্পনা। যেটি দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষ জড়ো হবে। করতে চান পুরাণ বাজারের পাশ ঘেষে রাস্তা, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ইনডোর স্টেডিয়াম, রেলওয়ের বস্তিবাসীদের জন্য হাইরাইজ বিল্ডিং। এর বাইরেও আরও অনেক স্বপ্ন দেখেন তিনি।