ধানুয়া মাদ্রাসার নিয়োগ স্থগিত

ডিজির প্রতিনিধি বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
ফরিদগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া ছালেহিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী পদে নিয়োগ স্থগিত হয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত তারিখে ঐ পদে নিয়োগ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ডিজির প্রতিনিধির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে চারজন প্রার্থীর মধ্যে তিনজন তা প্রত্যাখ্যান করেন।
নিয়োগ প্রত্যাশী চারজন প্রার্থীর মধ্যে মো. নয়ন মিজি, মো. আল আমিন ও মো. আব্দুল মতিন মিয়া অভিযোগ করেন- ধানুয়া ছালেহিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী পদে লোক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রদান করলে অন্যান্য প্রার্থীদের মতো আমরা আবেদন করেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষ মাদ্রাসার ডিজি অফিসে যোগাযোগ করলে মো. বাদশা মিয়া নামে একজন পরিদর্শক মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে ডিজি অফিসে কর্মরত (চুক্তিভিত্তিক) একজন প্রার্থীকে ঐ পদে নিয়োগের জন্য বিভিন্ন ধরনের চাপ দেন এবং উৎকোচের প্রস্তাব দেন। এমনকি এ ব্যাপারে ডিজির সুপারিশ আছে বলেও জানান। কর্তৃপক্ষ এই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে যথাযথ পদ্ধতিতে যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগের ব্যাপারে দৃঢ়তা দেখান। পরবর্তীতে পরিদর্শক মো. বাদশা মিয়া মোবাইলে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও সহ-সভাপতির সাথে একই বিষয়ে একই ধরনের প্রস্তাব দেন। তাতে কারো সম্মতি না থাকায় ডিজির প্রতিনিধি মনোনয়ন প্রদানে তিনি গড়িমশি করতে থাকেন। শিক্ষামন্ত্রীর একজন ব্যক্তিগত পিও বিষয়টি জেনে পরিদর্শক বাদশা মিয়াকে ফোন দিলে আবেদনের ২৩ দিন পর বিএমটিটিআই’র অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. খাদেমুল ইসলামকে ডিজির প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। নিয়োগ বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার সভায় ডিজির প্রতিনিধি প্রফেসর ড. খাদেমুল ইসলাম ঢাকা থেকে লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন নিয়ে আসেন। মঞ্জুরুল ইসলাম নামের ডিজিতে চুক্তিভিত্তিক কর্মরত একজন প্রার্থীর সাথে তিনি বারবার যোগাযোগ করেন। ঐ প্রার্থীকে আগেই প্রশ্ন দিয়েছেন বলে অন্যান্য প্রার্থীরা অভিযোগ করেন। সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হলে তার মনোনীত মঞ্জুরুল ইসলাম নিয়োগ পাবেন এমনটি নিশ্চিত হওয়ায় অন্যান্য প্রার্থীরা হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ডিজির প্রতিনিধি অর্থের বিনিময়ে এমনটি করেছেন বলে তারা অভিযোগ করেন এবং তাকে তিরস্কার করেন। মঞ্জুরুল ইসলাম বাদে অন্যান্য তিন প্রার্থী সাক্ষাৎকার বর্জন করে তারা সাক্ষাৎকারের কেন্দ্র ত্যাগ করেন। এতে ডিজির প্রতিনিধি প্রফেসর ড. খাদেমুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং একক প্রার্থী মঞ্জুরুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ নিয়োগ বোর্ডের সদস্যদের ডিজির ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। বিধি মোতাবেক ন্যূনতম তিন জন প্রার্থী না থাকায় কোরান তৈরি হয়নি বলে সভাপতিসহ অন্যান্য সদস্যরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। এতে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে তার খরচ বাবদ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে দেখিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। পরে মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ ভয়ে ১৫ হাজার টাকা দিলে তিনি ঢাকা চলে যান।
বিধি মোতাবেক ন্যূনতম তিন জন প্রার্থী না থাকায় নিয়োগ স্থগিত হলে ডিজি অফিসের চুক্তিভিত্তিক কর্মরত প্রার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম নিয়োগ বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের চাঁদপুর শহর থেকে লোকজন নিয়ে গিয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয় এবং গালমন্দ করে।
মাদ্রাসার সহ-সভাপতি ফিরোজ আলম জানান, ডিজির প্রতিনিধি প্রফেসর ড. খাদেমুল ইসলাম আসার সময় প্রশ্ন তৈরি করে নিয়ে এসেছেন এবং তিনি খুব ক্ষমতা দেখিয়েছে। তিনি তা পারেননা। নিয়ম হচ্ছে মনোনয়ন বোর্ডের সদসরা প্রশ্ন করবেন। মঞ্জুরুল ইসলাম নামের এক প্রার্থীর পক্ষে ভায়াস্ট হয়ে এসেছিলেন। তিনি কোন প্রার্থীকে চেনার কথা নয়, কিন্তু তিনি বার বার প্রার্থী মঞ্জুরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে, অন্যান্য প্রার্থীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা পরীক্ষা না দিয়ে চলে যায়। এতে মাদ্রাসা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মাদ্রাসা সভাপতি ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু সাহেদ সরকার জানান, মাদ্রাসার অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী পদে নিয়োগ পরীক্ষার আগে ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রার্থী ৩ জন চলে যায়। ডিজি অফিসে মঞ্জুরুল ইসলাম একটি ছেলে তাদের কাজ করে। তার বিষয়ে ডিজির প্রতিনিধি প্রফেসর ড. খাদেমুল ইসলাম ভায়াস্ট হয়ে এসেছে। নিয়ম হচ্ছে নিয়োগ বোর্ডের সদস্যরা মিলে প্রশ্ন করবে। কিন্তু ডিজির প্রতিনিধি নিজেই ঢাকা প্রশ্ন তৈরি করে নিয়ে এসেছেন। সেই প্রশ্ন মোতাবেক পরীক্ষা নিতে বলেন।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ অসুস্থ থাকার কারণে তার সাথে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ডিজির প্রতিনিধি প্রফেসর ড. খাদেমুল ইসলামের সাথ যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ফরিদগঞ্জ ধানুয়া ছালেহিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য আমি গিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস চেয়েছি। যার মধ্যে ছিলো ডিজি কর্তৃক অনুমোদিত নিয়োগ কমিটি, যা তারা দেখাতে পারেনি। সেখানের শিক্ষা অফিসার নিয়োগ কমিটির মেম্বার নয়, কিন্তু তারা তাকে নিয়ে এসেছে। তখন আমি ঐ শিক্ষা অফিসারকে বললাম, আপনি এখানে এসেছেন কেন? আপনি এখানে থাকতে পারবেন না। তারা প্রার্থীদের যে এডমিড কার্ড দিয়েছে সেখানে লেখা আছে সাক্ষাৎকার। কিন্তু ডিজি থেকে নির্দেশ আছে এখানে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা হবে। তারা আরেকটি লুকোচুরি করেছেন পরীক্ষা মাদ্রাসায় না করে ৯ কিলোমিটার দূরে তারা চাঁদপুরে আয়োজন করেছে। তখন আমি বুঝতে পারলাম এখানে ঝামেলা আছে। পরে প্রশ্নপত্রের প্রসঙ্গ আসলে আমি তাদের বললাম আমি একটি প্রশ্ন বানিয়ে নিয়ে এসেছি, আপনারা তা দিয়ে পরীক্ষা নিতে পারেন। যদি না নেন তাহলে নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে অনেক সময় লাগবে। নিয়োগ বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে ২ জন প্রশ্ন তৈনি করতে পারে না। পরে তাদের ২ জন ও আমি মিলে প্রশ্ন তৈরি করে যখন পরীক্ষা নেব তখন তারা বুঝতে পারছেন তাদের পছন্দের প্রার্থী সুযোগ পাবে না। পরে তারা পরীক্ষার্থীদের নামাজের আগে তাড়িয়ে দিয়েছেন। পরে আমি অসহায়ের মতো বসেছিলাম। আমাকে ফেলে তারা সব চলে গেছে, আমাকে তারা কেউ বিদায় দেননি।
ডিজি অফিসের চুক্তিভিত্তিক কর্মরত প্রার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। তারা তাদের পছন্দের লোক নিতে না পারায় তারা এখন বিভিন্ন মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি খাদেমুল ইসলাম আমার বাড়ি সিরাজগঞ্জ, আমি একদিনে তৈরি হইনি। গাড়ি ভাড়া ১০ হাজার টাকা মধ্যে তারা ড্রাইভার রোহানকে দিয়েছে ৯ হাজার টাকা। পরে আমি বললাম, রোহান ৯ হাজার টাকা দিছে, তুমি আমার কাছ থেকে ১ হাজার টাকা নিয়ো।
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১।