
মাহ্ফুজ মল্লিক
মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও এলাকায় বিয়ের প্রলোভন দিয়ে এক কিশোরীকে (১৬) ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় রিয়াদ ও তার সহযোগী হাবীবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে নায়েরগাঁও বাজার এলাকায় পাটন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত প্রায় এক বছর ধরে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে রিয়াদ প্রায়ই ওই ছাত্রীকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতো। একপর্যায়ে রিয়াদ তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে সে এতে রাজি হয়। পরে দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরপর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রিয়াদ ছাত্রীটিকে তার (রিয়াদ) বন্ধু মো. শাজাহান ও মো. হাবিবের বাড়িতে নিয়ে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে গত ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময় একাধিকবার ধর্ষণ করেন। গত শুক্রবার রাতে ছাত্রীটির ঘরে তার ভাবি ছাড়া পরিবারের অন্য কোনো সদস্য ছিলেন না। তার মা এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। রাত ১১টায় রিয়াদ ছাত্রীটির সঙ্গে যোগাযোগ করে তার বসতঘরে প্রবেশ করেন। এরপর ছাত্রীটি রিয়াদকে বিয়ের কথা বললে তিনি (রিয়াদ) তাকে বিয়ে করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রিয়াদ মুখে রুমালচাপা দিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। দু’জনের ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে পাশের কক্ষে থাকা ভাবি কক্ষে এসে রিয়াদকে দেখে চিৎকার করেন। ওই চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন এবং রিয়াদকে আটক করে থানায় খবর দেন। রাতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রিয়াদকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) স্বপন কুমার আইচ বলেন, এ ঘটনায় শনিবার রাত দশটায় ছাত্রীটির মা বাদী হয়ে রিয়াদ এবং তার সহযোগী (বন্ধু) মো. শাজাহান, মো. হাবিব ও মো. রাজিবসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করে তার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। শনিবার রাতে আটক রিয়াদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মো. হাবীবকে তার বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
ওসি স্বপন কুমার আইচ আরো বলেন, স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রোববার সকাল ১০টায় ধর্ষণের শিকার ছাত্রীকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। আটক রিয়াদ ও হাবীবকে গতকাল চাঁদপুরের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯।
