নারায়ন রবিদাস
ফরিদগঞ্জে হাসি আক্তার ঝর্না (১৫) নামে এক কিশোরী গৃহবধূ বিষপাণ করার ৫ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। হাসি উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত মঈনুল হক গাজীর মেয়ে। এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানায় ২৯ জানুয়ারি একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
হাসির বড় বোন সাজু বেগম জানান, তারা ৪ বোন ও ২ ভাইয়ের মধ্যে হাসি ছিলো ৫ম। গ্রামের বাড়িতে আমার মা, এক ভাই ও হাসি বসবাস করতো। ভাইটি সরল প্রকৃতির। তাই উপযুক্ত অভিভাবক না থাকায় গত ৫/৬ মাস পুর্বে আমাদের বাড়ির জনৈক জুয়েল হাসি আক্তারকে তার শ্যালক ও রামপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে হোটেল কর্মচারী আরিফ হোসেনের সাথে বিয়ে দেয়। যদিও হাসির বিয়ের বয়স তখনো হয়নি এবং এ বিয়েতে আমি ও আমার অপর দুই বোনের মতামত ছিলো না। বিয়ের পর বিভিন্ন ভাবে হাসি নির্যাতনের শিকার হতে হয়। শারীরিক ও মানসিক এমন নির্যাতন সইতে না পেরে গত ২৪ জানুয়ারি হাসি বিষপানে আত্মহত্যা চেষ্টা করে। পরে তার শ^শুর বাড়ির লোকজন তাকে চাঁদপুর সদর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। চাঁদপুর সদর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক হাসির অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে রেফার করেন।
পরে তাকে ঢাকার মিডফোর্ট হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানোর পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ জানুয়ারি মারা যায়। পরে ওই হাসপাতালে তার মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার পর শনিবার সকালে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানায় ২৯ জানুয়ারি একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
৩১ জানুয়ারি, ২০২১।
