ফরিদগঞ্জে দু’প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ১৭

ফরিদগঞ্জ ব্যুরো
ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতীক বারদ্দের দিনই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে দু’প্রার্থীর ১৭ জন সমর্থক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ওই ইউনিয়নে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করতে দেখা গেছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী রোববার (১৩ নভেম্বর) প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয় নির্বাচন অফিস। প্রতীক পেয়ে কর্মী সমর্থকদের নিয়ে প্রার্থীরা নির্বাচনী গণসংযোগে নেমে পড়ে। এসময় শাহাপুর এলাকায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. মিন্টু পাটওয়ারী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকের মো. রাজন শেখের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।
এসময় নৌকা প্রতীকের ১০ জন সমর্থক ও আনারস প্রতীকের ৭ জন সমর্থক আহত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বিষয়টি নিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. মিন্টু পাটওয়ারী বলেন, স্বাধীনতার স্বপক্ষের প্রতীক নৌকা মার্কার সমর্থনে আমার কর্মী সমর্থকরা নির্বাচনী গণসংযোগ কালে স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারসের লোকজন আমার কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা চালায়। এসময় আমার ১০ জন সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছে।
এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রাজন শেখ বলেন, আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। আমি যাতে নির্বাচন থেকে সরে যাই। সেই অনুযায়ী রোববার (১৩ নভেম্বর) সকালে আমি প্রতীক নিয়ে উপজেলা পরিষদ থেকে বের হওয়ার সময় প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের প্রার্থীর লোকজন আমার লোকজনের উপরে হামলা চালায়। বিকেল বেলায় শাহাপুর গ্রামের আমার নিজ বাড়িতে মোটর সাইকেল যোগে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে আমার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাংচুর করে। এসময় তারা আমার মা, দুই ফুফু এবং বোন ও আমার আমার ৩জন সমর্থককে পিটিয়ে আহত করে। পরে দ্রুত ‘৯৯৯’ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
তবে শাহাপুর ও দায়চারা গ্রামের মানুষজনের মাঝে এ সংঘর্ষের ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করতে দেখা গেছে।
ঘটনাস্থলে যাওয়া পুলিশের এসআই আনোয়ার জানান, ‘৯৯৯’ এর ফোনের প্রেক্ষিতে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।
ফরিদগঞ্জ থানা ওসি মো. শহীদ হোসেন গতকাল সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদককে বলেন, হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে এখন কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দাষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কাজী আবুবক্কর সিদ্দিক বলেন, আমাদের কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

১৪ নভেম্বর, ২০২২।