ফরিদগঞ্জে দুলাভাইয়ের ছুরিকাঘাতে শ্যালকের মৃত্যু

নিহত রতন ও অভিযুক্ত হত্যাকারী শাহাদাত।

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্/নারায়ন রবিদাস
ফরিদগঞ্জে দুলাভাইয়ের ছুরিকাঘাতে শ্যালকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) বিকালে উপজেলার সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নের দিঘদাইর গ্রামের সর্দার বাড়ির দোকানের সামনে এ ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। শ্যালকের নাম কামরুল হাসান রতন (৪০)। তিনি ওই গ্রামের মৃত আবুল বাসারের ছেলে।
এদিকে পুলিশ ঘাতক শাহাদাত হোসেনকে গ্রেফতার করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ শহীদ হোসেন।
হত্যাকারী দুলাভাই শাহদাত সর্দার একই গ্রামের মৃত আলী আহম্মদের ছেলে। এই ঘটনার সাথে মৃত আলী আহম্মদের ছেলে শাহজাহান সর্দার (৬৫) ও আব্বাস সর্দার (৫৮) এবং শাহজাহান সর্দারের ছেলে সাহাব উদ্দিন (৩০) ও শরীফ হোসেন (২৮) জড়িত বলে দাবি করেন নিহতের পরিবার।
এ ঘটনায় মো. জসিম উদ্দিন (৫৫) নামের অপর একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি গাজীপুর জেলার মধ্য খাইলপুর গ্রামের মৃত শরাফত হোসেনের ছেলে। তিনি নিহত কামরুল হাসান রতনের খালু।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকারী শাহদাত হোসেন তার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় বসবাস করছেন। তিনি গত কয়েকবছর যাবৎ কোন ধরনের কাজকর্ম না করে টাকা ও সম্পদের জন্য স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছেন। যার ফলে বোন ও ভাগিনা-ভাগনিদের সুখের কথা চিন্তা করে তারাও ভগ্নিপতিকে (দুলাভাই) অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করছেন।
সবশেষ গত কয়েকমাস ধরে নগদ টাকার পাশাপাশি সম্পদ (ভূমি) লিখে দেওয়ার জন্য শাহদাত সর্দার তার স্ত্রী ও শ্যালকদের চাপ সৃষ্টি করে আসছেন। এ নিয়ে তাদের দুই পরিবারের মাঝে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ বিরোধের সূত্র ধরে মঙ্গলবার বিকালে সর্দার বাড়ির সামনে শ্যালক কামরুল হাসান রতনকে একা পেয়ে অতর্কিত হামলা করে ছুরিকাঘাত করেন দুলাভাই শাহাদাত সর্দার ও তার পরিবারের লোকজন।
এসময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তার খালু জসিম উদ্দিন। তাকেও শাহাদাত সর্দার ছুরিকাঘাত করেন। পরে স্থানীয়রা আহত কামরুল হাসান রতন ও জসিম উদ্দিনকে উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎক কামরুল হাসান রতনকে মৃত ঘোষণা এবং গুরুতর আহত জসিম উদ্দিনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল, এসআই মেসবাহুল আলম চৌধুরীসহ অন্য কর্মকর্তারা। এরপর বিষয়টি ফরিদগঞ্জ থানায় জানালে তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং আসামিদের আটকের চেষ্টা শুরু করেন।
এ বিষয়ে হত্যাকারী শাহাদাত সর্দারের স্ত্রী আনজুম আরা স্বপ্না বলেন, টাকা ও সম্পদের জন্য আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছে। আমার ও আমার সন্তানদের সুখের কথা চিন্তা করে আমার ভাইয়েরা তাকে সবসময় টাকা দিয়ে সহযোগিতা করছে। সবশেষ টাকার পাশাপাশি সম্পদের জন্য আমার ভাইদের চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। এ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, সম্পদ না পেয়ে আমার স্বামী ও তার ভাই-ভাতিজারা আমার ভাইদের হুমকি-ধমকি দেয়। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে আমার ভাইকে (কামরুল হাসান রতন) একা পেয়ে আমার স্বামীসহ তারা সবাই ছুরিকাঘাত করে মেরেই ফেলে। তিনি পুলিশের কাছে এই হত্যাকা-ের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করনে। এসময় তিনি তার স্বামী নেশাগ্রস্ত ও সন্ত্রাসীমূলক কার্যক্রম ও পরকীয়ায় আসক্ত বলে জানান।
হত্যাকারীর ছেলে সাজ্জাদ হোসেন শুভ জানান, টাকা ও সম্পদের জন্য বাবা আমার মাকে যথেষ্ট শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছেন। পাশাপাশি আমার মামাদেরও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন তিনি। তারপর মামারা আমার বাবা ও আমাদের খুব সহযোগিতা করতেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের মাঝে বিরোধ সৃষ্টি হয়। যা সমাধানের লক্ষ্যে গত ৩ দিন আগে আমরা ঢাকা থেকে বাড়িতে আসি।
তিনি বলেন, কিন্তু সমাধানের আগেই মঙ্গলবার বিকালে বাবা ও আমার চাচা এবং চাচাতো ভাইদের হামলা এবং আমার বাবা ছুরিকাঘাত করে মামাকে (কামরুল হাসান রতন) মেরে ফেলেন।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. গোলাম মাওলা বলেন, আমরা কামরুল হাসান রতনকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। অপর আহত জসিম উদ্দিনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
হাজীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ জানান, খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিহতের মরদেহ পুলিশি হেফাজতে এবং ফরিদগঞ্জ থানায় বিষয়টি জানানো হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ শহীদ হোসেন বলেন, ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে রতনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় অভিযুক্ত শাহাদাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

২০ এপ্রিল, ২০২২।