ফরিদগঞ্জে পুলিশের জালে ধরা পড়ল রিমন

স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে থাকার ৫ মাস পর

ফরিদগঞ্জ ব্যুরো
সহপাঠীর সাথে তিন বছর প্রেম করে বিয়ে, তারপর প্রায় মাসাধিককাল বাসা ভাড়া নিয়ে একত্রে বসবাসের পর হঠাৎ নিরুদ্দেশ। ছেলে নিখোঁজের কথা উল্লেখ করে ২৩ জানুয়ারি থানায় সাধারণ ডায়রি করার পর ছেলেকে অপহরণের অভিযোগে মায়ের মামলা।
গত ২০ মার্চ থানায় এফআইআর হওয়া মামলার আসামি ছেলে রিমনের স্ত্রী চায়না আক্তার ও তার মা রোশনারা বেগম। সাথে আরো আসামি করা হয় বিয়ের কাবিননামার স্বাক্ষী জাকির হোসেন এবং দুই পক্ষ নিয়ে মিমাংসার চেষ্টাকারী এএম টুটুল পাটওয়ারী নামে একজন ব্যবসায়ী। এরই মধ্যে স্বামীকে হারিয়ে হতাশ স্ত্রী ও সহপাঠী চায়না আক্তার গত ১৩ জুন ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নিরুদ্দেশ স্বামীর সন্ধান চান। তার ৫ দিন পর ১৯ জুন পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে রিমনের মা রওশনারা বেগম অপহরণ মামলার আসামি আটক ও তার ছেলেকে উদ্ধারের বিষয়ে পুলিশের গড়িমসির অভিযোগ করেন।
কিন্তু এতোসব কিছু ঘটনার মধ্যে দিয়েও অপহরণ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুমন্ত মুজমদার তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে পুলিশের জালে নিয়ে আসতে সক্ষম হন রিমনকে। অবশেষে শুক্রবার দিবাগত রাতে ঢাকার দোহার উপজেলার জয়পাড়া বাজারের একটি মোবাইল ফোনের দোকান থেকে দোহার থানা পুলিশের সহায়তায় রিমন উদ্ধার হয়।
গত রোববার রাতে প্রেস ব্রিফিং করে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুর রকিব সাংবাদিকদের এমন তথ্য জানান। তিনি জানান, স্বেচ্ছা আত্মগোপন করার রিফাতুল ইসলাম গতকাল রোববার দুপুরে চাঁদপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের মাধ্যমে এই দীর্ঘ ৫ মাসের নাটকের অবসান ঘটান।
ওসি জানান, জবানবন্দিতে রিমন জানায়- তার বাবার পরামর্শে প্রথমে সে সিলেটের সুনামগঞ্জে, পরবর্তীতে ঢাকার দয়াগঞ্জে ও নাজিরা বাজার পর্যায়ক্রমে অবস্থান করে। সর্বশেষ ২০ দিন আগে রিমনের বাবা ফারুকুল ইসলাম ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার জয়পাড়া বাজারের নুরুল ইসলামের মোবাইল ফোনের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতে রেখে আসেন।
সর্বশেষ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুমন্ত মজুমদার তাকে ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তাকে জালে নিয়ে আসতে সক্ষম হন। কিন্তু চতুর রিমন বারংবার তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করার চেষ্টা করলেও তাকে উদ্ধার সেখানে হাজির হন তদন্তকারী কর্মকর্তার নেতৃত্বে একদল পুলিশ। গত ২১ জুন দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ নুর খানের সহায়তায় দিনভর জয়পাড়া বাজারে চিরুনী অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধারের প্রচেষ্টা যখন প্রায় ব্যর্থ! তখন ফিরে আসার প্রক্রিয়াকালে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে কুরিয়ার সার্ভিসের লোক হিসেবে ছদ্মবেশে রিমনের নম্বরে ফোন দিলে টোপ গিলে সে। সে কিছুক্ষণ পর তার দোকান মালিককে দিয়েই সে ফোন দিয়ে কুরিয়ার সার্ভিসের বিষয় জানতে চায়। এই সময় পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়। পরে দোহার থানা পুলিশের সহযোগিতায় শুক্রবার গভীর রাতে তাকে ধরতে সমর্থ হয়।
প্রেস ব্রিফিংকালে উপস্থিত ছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুমন্ত মজুমদারসহ প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুন্নবী নোমান, সাধারণ সম্পাদক প্রবীর চক্রবর্তীসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।