ফরিদগঞ্জে ২ ব্যবসায়ী আটক ও ২ জনের জরিমানা

লবণের দাম বেশি নেয়ার অভিযোগ

নবী নোমান
লবণ নিয়ে হুলস্থুল চলছে। কিছু ক্রেতা বেসামাল হয়ে ফরিদগঞ্জের দোকানে ভীড় জমাচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে থেকে উপজেলার ফরিদগঞ্জ, রূপসা ও চান্দ্রাসহ বিভিন্ন বাজারে নারী-পুরুষ দল বেধে লবণ ক্রয় শুরু করে। জনপ্রতি এক কেজি লবণের পরিবর্তে সবাই ৩ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত লবণ কেনা শুরু করে। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্যে তার বিক্রি শুরু করে। বিকালে ফরিদগঞ্জ বাজারে মুদী দোকান ও ফ্রেশসহ বিভিন্ন কোম্পানীর গোডাউনে ভিড় করে লবণ কিনতে দেখা গেছে। যদিও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তাদের কাছে পর্যাপ্ত লবণ মজুদ রয়েছে। কোন সংকট নেই। কিন্তু তারপরও ক্রেতাদের থামানো যাচ্ছে না।
ফরিদগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী কবির হোসেন জানান, তার কাছ থেকে সকাল থেকে বিভিন্ন লোক লবণ কেনা শুরু করে। তাদের লবণের সংকট নেই বললেও তারা তা মানছেন না।
এদিকে থানা পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত মূল্যে লবণ বিক্রির জন্য ২ জনকে আটক করা হয়। এর হলেন- রূপসা বাজারের ব্যবসায়ী গৌতম সাহা ও মহসিন।
এছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মমতা আফরিন উপজেলার গাজীপুর বাজারে লবণের দাম বিক্রির অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৪ এর অনুযায়ী গাজীপুর বাজারের ব্যবসায়ী রতন সাহা ও ইব্রাহিমকে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার জরিমানা করা হয়।
বিকালে ফরিদগঞ্জ বাজারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলী আফরোজ লবণ নিয়ে গুজব বিষয়ে মানুষের মাঝে সচেতনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাজার মনিটরিংয়ে বের হন। এসময় তার সাথে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুন্নবী নোমান, সাধারণ সম্পাদক প্রবীর চক্রবর্তীসহ প্রেসক্লাবের সংবাদকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এসময় তিনি বিভিন্ন দোকানে গিয়ে লবণ বিষয়ে গুজব বলে নিশ্চিত করেন। একই সাথে অতিরিক্ত দামে বিক্রি না করার জন্য অনুরোধ করেন।
এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী আফরোজ জানান, একটি চক্র কৌশলে গুজব ছড়িয়ে এ ঘটনা ঘটাচ্ছে। ইতোমধ্যেই সহকারী কমিশনার (ভূমি) মমতা আফরিন এবং পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম মাঠে তৎপর রয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের ফোন করে মাঠে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।