মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
লবণের দাম বৃদ্ধির গুজব নিয়ন্ত্রণে এবং জনসচেতনতার লক্ষ্যে হাজীগঞ্জ বাজারে অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে ২ ব্যবসায়ীকে নগদ ৯ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া।
এ সময় পৌরসভার বাজার মনিটরিং টিম, হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার প্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারী দোকানে গিয়ে বেশি দামে লবণ এবং একজন ক্রেতার কাছে অতিরিক্ত লবণ বিক্রি না করার জন্য ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা প্রদান করেন ইউএনও।
জানা গেছে, উপজেলায় পিঁয়াজের দর একটু নিয়ন্ত্রণে আসতে না আসতেই লবণের দাম নিয়ে চলছে অসাধু চক্রের কারসাজি। লবণের দাম বেড়েছে খবর শুনে বিভিন্ন দোকানে ক্রেতারা সর্বনিম্ন ৩ থেকে ৫ কেজি এবং সর্বোচ্চ ২০ কেজি করে লবণ ক্রয় করছেন। এরই প্রেক্ষিতে গুজব ও লবণের দাম নিয়ন্ত্রণে এবং জনসচেতনতার লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ইউএনও।
পরে মূল্য বৃদ্ধির সত্যতা পাওয়ায় এবং দোকানে মূল্য তালিকা না থাকায়, ভোক্তা অধিকার আইনে হাজীগঞ্জ বাজারের দু’জন ব্যবসায়ীকে ৯ হাজার টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া। এর মধ্যে খোরশেদ আলম নামের একজন ব্যবসায়ীকে নগদ ৭ হাজার টাকা, অনাদায়ে ৭ দিনের বিনাশ্রম জেল ও মদন সাহা নামের অপর এক ব্যবসায়ীকে নগদ ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ সময় অনেক ক্রেতা লবণ কিনতে ভিড় ও অতিরিক্ত লবণ সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়লে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত লবণ বিক্রি করতে সতর্ক ও উপস্থিত ক্রেতা ও জনগণকে লবণের দাম বাড়বে না বলে আশ্বস্ত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
এ ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া বলেন, লবণের সংকট নেই এবং দামও বৃদ্ধি করা হয়নি। তাই গুজবে কান না দেয়ার আহবান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের গুজব বন্ধে প্রশাসন, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।
এ সময় হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ আসফাকুল আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, পৌরসভার বাজার পরিদর্শক খাজা সাফিউল বাসার রুজমনের নেতৃত্বে বাজার মনিটরিং টিম এবং জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
