গোবিন্দপুর উবি’র অফিস সহকারী প্রবাসী সাইফুল কাণ্ড
এস এম সোহেল
ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর প্রবাসী সাইফুল ইসলাম খন্দকারকে নিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিস দর কষাকষি করার অভিযোগ উঠছে। বিদ্যালয়টির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের আশ্বাসে প্রবাসী সাইফুল গত ২৩ অক্টোবর ৩ মাসের ছুটি নিয়ে দেশে আসেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে সে বিদ্যালয়ের স্বপদে নিয়মিত হতে প্রতিদিন উপস্থিতিসহ ফরিদগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আলী আশ্রাফের যোগসাজশে বেসরকারি হাসপাতালের মেডিকেল সনদ সংগ্রহের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
জানা যায়, করোনাকালীন সময়ে বিদ্যালয় বন্ধের সুযোগে অফিস সহকারী সাইফুল সৌদি আরব শ্রমিক হিসেবে চলে যান। বিষয়টি বিভিন্ন মহলে চাউর হলে বিদ্যালয়ে সভাপতি ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের আত্মীয় পরিচয়দানকারী হুমায়ুর কবির পাটোয়ারী সাইফুলকে মেডিকেল ছুটি দেখিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নেন বলে জানা যায়।
প্রবাসী সাইফুলের কর্মস্থল ফাঁকি দিয়ে সৌদি আরব চলে যাওয়ার এমন সংবাদ স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ফরিদগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আলী আশ্রাফ ইল্শেপাড়কে জানিয়েছিলেন, সাইফুল যেহেতু মেডিকেল ছুটি ভোগ করছে সে হিসেবে নিয়ম অনুযায়ী বেতন-ভাতা শুরুতে তার হিসাব নম্বরে জমা হয়েছে এবং গত দুই মাস ধরে তার বেতন-ভাতা বন্ধ করে দিয়েছি। সাইফুল বিদ্যালয়ে যোগদান করতে চাইলে তার পাসপোর্ট দেখা হবে বলে- এই শিক্ষা কর্মকর্তা ইলশেপাড়কে নিশ্চিত করেছিলেন।
ইতোমধ্যে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাইফুলকে স্বপদে বহাল করার জন্য মোটা অঙ্কের অর্থের চুক্তির খবর চাউর হলে নড়েচড়ে বসে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আলী আশ্রাফ। তিনি এখন আগের অবস্থান থেকে সরে এসে সাইফুলকে স্বপদে বহালের উদ্যোগ গ্রহণ করার অভিযোগ উঠছে। যদিও তিনি এমন অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিবেন বলে জানান।
অপরদিকে চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার গিয়াসউদ্দিন পাটোয়ারী ইতোপূর্বে ইলশেপাড়কে জানিয়েছিলেন, করোনাকালীন সময়ে যেহেতু বিদ্যালয় বন্ধ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত হাজিরা নেই, সেহেতু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু হলে বিদ্যালয়টি ভিজিট করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিবেন। তিনিও এখন সাইফুল বিদ্যালয়ে উপস্থিত হচ্ছেন বিষয়টি জানেন না- বলে দাবি করছেন।
এদিকে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক গত ১২ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় খোলার পর প্রবাসী সাইফুলের সাথে ভার্চুয়ালি যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। ইতোমধ্যে তিনি সাইফুলকে আশ্বস্ত করছেন- কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, জেলা শিক্ষা অফিস, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিসহ বিদ্যালয় উন্নয়ন ফান্ডে ৪ লাখ টাকা প্রদান করা হলে তাকে স্বপদে বহাল করা হবে। সে সুবাদে সাইফুল সৌদি আরব থেকে সম্প্রতি দেশে চলে আসে। দেশে এসে যথারীতি সে বিদ্যালয়ে যোগদানসহ অন্যান্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
অপরদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা শিক্ষা অফিস গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর প্রবাসী সাইফুলের তথ্য গোপন করে পাসপোর্ট তৈরি ও প্রবাসে অবস্থান এবং বর্তমানে ৩ মাসের ছুটিতে দেশের আসার পরও তাকে বরখাস্ত কিংবা কারণ দর্শানো না করায় বিদ্যালয়ে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন, সাইফুল এ বিদ্যালয়ে যোগদানের পর বেশ কিছু অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পরে। সে বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়ায়। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অপ্রাপ্ত এক ছাত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে বাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করে। পরে এ নিয়ে ছাত্রীর পরিবারের সাথে টানাপোড়ন সৃষ্টি হলে ঐ মেয়েকে তালাক দিয়ে অন্যত্র দ্বিতীয় বিয়ে করেন এই সাইফুল ইসলাম।
বর্তমানে সে ফের বিদ্যালয়ে যোগদান করলে শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকদের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিবে বলে বেশ কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করছেন। এজন্য বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন, কোন দুর্নীতির মাধ্যমে যেন প্রবাসী সাইফুলকে এ বিদ্যালয়ে বহাল করা না হয়।
এজন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দাবি করছেন, জেলা শিক্ষা অফিস ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস দ্রুত যেন প্রশাসনিক ব্যবস্থাগ্রহণ করেন। অন্যথায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের অনৈতিক অর্থ-বাণিজ্য বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
০১ নভেম্বর, ২০২১।
