বালিথুবায় উত্তপ্ত ও ভীতিকর পরিস্থিতিতে দু’প্রার্থীর শো-ডাউন

অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের হাতে গাড়ি ও মাইক ভাঙচুর

ফরিদগঞ্জ ব্যুরো
ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণায় বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) ছিল উত্তপ্ত ও ভীতিকর পরিস্থিতি। পুরো দিন ছিল পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সতর্ক পাহারা। এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর আনারসের শো-ডাউনে ছিল বালিথুবা ইউনিয়ন সরব। পুলিশী সতর্কতার পরও দুর্বৃত্তরা আনারস প্রতীকের গাড়ি, সাউন্ড বক্স এবং মাইক ভাঙচুর করেছে।
ওইদিন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আনারস প্রতীকের প্রার্থী হারুনুর রশীদের পূর্ব নির্ধারিত শো-ডাউন ছিল। দুপুরের পরে ওই ইউনিয়নের দেইচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার সমর্থকরা পিকআপ গাড়িতে সাউন্ড বক্স বসিয়ে মিছিলে প্রস্ততি নিলে, সেখানে একদল অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত হানা দিয়ে তাদের প্রস্তুতি ভন্ডুলসহ গাড়ি ও সাউন্ড বক্স ভাঙচুর করে। এই সময় তারা একটি জেনারেটরও পুড়িয়ে দেয়। পরে, বিকালে স্বতেন্ত্র প্রার্থী হারুন অর রশীদ তার সমর্থকদের নিয়ে পাটওয়ারী বাজার ও বালিথুবায় শো-ডাউন বের করে। এর কিছু পর আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জিএম তাবাচ্ছুম তার সমর্থকদের নিয়ে বালিথুবা বাজারে শো-ডাউন করেন।
বালিথুবা বাজারে নৌকা সমর্থিত প্রার্থী জিএম তাবাচ্ছুম পরে এক পথ সভায় বক্তব্য রাখেন। সেখানে তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন ও বালিথুবা ইউনিয়নের উন্নয়ণের জন্য নৌকা প্রতীকের বিজয়ের বিকল্প নেই। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হারুনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যদি আপনি সত্যিকারি অর্থে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ভালোবাসেন ও আ’লীগ করেন, তাহলে নৌকা বিরোধী পথ ছেড়ে আমাদের কাতারে আসেন। বহিরাগতদের নিয়ে ভোট করতে বালিথুবায় আসবেন না।
অপরদিকে বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকের হারন অর রশীদ, তার শো-ডাউন শেষে বালিথুবা বাজারে এক পথ সভায় বলেন, তৃণমূলের নির্বাচনে জনগণ মানুষের কল্যাণে আসবে ও ভালো প্রার্থী খুঁজে, নির্বাচিত করবে। অতীতে যে মানুষ জনগণের উন্নয়নের জন্য কাজ করেছে, আমার বিশ^াস সাধারণ ভোটাররা তাকেই ভোট দিবেন। সে বিশ^াসে আমি আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছি। আমি জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করছে আমাদের নির্বাচনী কাজ করার সুষ্ঠু পথ তৈরি করে দেন এবং জনগণকে নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দেন। তিনি বলেন, আমি এবং আমার কর্মীরা প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

৩০ ডিসেম্বর, ২০২১।