নেতাদের আচরণে সাধারণ মানুষ যেন ক্ষুব্ধ না হন
………..পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম
মনিরুল ইসলাম মনির
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেছেন, দল না থাকলে শক্তি থাকে না, সরকারের স্থায়িত্ব থাকে না। শুধু নেতা-কর্মী নয়, সাধারণ মানুষের সমর্থন-সহানুভূতি দলের প্রতি প্রয়োজন। তাই জনসমর্থন ধরে রাখতে নেতাদের আচার-আচরণে যেন সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ না হন এবং কষ্ট না পান সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখে আমাকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেছেন আমি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে তার আস্থার প্রতিদান দিতে চাই। আমি সারাজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে দুর্নীতিমুক্ত থেকে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছি। ভবিষ্যতেও আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে মানুষের সেবায় নিরলসভাবে কাজ করে যেতে চাই।
বুধবার (২৫ আগস্ট) সকালে মতলব উত্তর উপজেলার গালিমখা বাংলা বাজার এলাকায় পথসভায় অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মতলব-গজারিয়া সেতু, দাউদকান্দি-মতলব উত্তর আঞ্চলিক মহাসড়ক, বেড়িবাঁধ রক্ষাসহ মতলবের সব উন্নয়নকাণ্ড বাস্তবায়ন হবে। উন্নয়ন বলতে যা বুঝায় তা সবই হবে মতলবে। কারণ, আমি মতলবের সন্তান। দীর্ঘদিন পরিকল্পনা কমিশনে সততার সঙ্গে কাজ করছি। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার প্রতি আস্থা রেখে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি যেন প্রধানমন্ত্রীর আস্থার প্রতিদান দিতে পারি, সেজন্য আপনাদের দোয়া চাই।
পথসভায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ অ্যাড. নুরুল আমিন রুহুল, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা এমএ কুদ্দুস। এসময় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্ন বিভাগীয় কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, কোভিডের কারণে অর্থনীতিতে আঘাত এসেছে এবং তা উত্তরণে সরকার যথাযথ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তবে এটি সত্য যে আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এখানে দীর্ঘমেয়াদি লকডাউন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সরকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে পেশাজীবীসহ বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমি আমার কর্মজীবনে স্বচ্ছতার প্রমাণ দিতে পেরেছি। কোনো অবৈধ সুবিধা নিইনি। দেশটাই আমার কাছে বড়। স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ছিল বলেই আজ আমি এই জায়গায় আসতে পেরেছি। পরিকল্পনা কমিশনে আমার পুনর্জন্ম হয়েছে। এটি অপূর্ব পাওনা। দীর্ঘ ১২ বছর এই চত্বরে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রী আমার ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন, তা যেন রক্ষা করতে পারি সেজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে পরিকল্পনামন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করেই উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে চান একুশে পদক পাওয়া এই কৃষি অর্থনীতিবিদ।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম আরো বলেন, জিইডিতে দায়িত্ব নেওয়ার সময় কোনো পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ছিল না। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের পরামর্শে সে সময় পিআরএসপি ছিল। হঠাৎ করে পরিকল্পনা থেকে বের হয়ে আসা তখন ছিল সংবিধানের লংঘন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আবারও পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় ফিরে আসা হয়েছিল।
এ সময় তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ১৫ আগস্টের সব শহীদ, জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করেন।
এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাছির উদ্দিন সারোয়ার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার গাজী শরিফুল হাসান, সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) ইয়াছির আরাফাত, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজা হাবিব শাপলা, মতলব উত্তর থানার ওসি মুহাম্মদ শাহজাহান কামালসহ কর্মকর্তা ও ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ।
অধ্যাপক ড. শামসুল আলম পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর গতকাল বুধবার প্রথমবার নিজ গ্রামে আসেন। নিজ বাড়ি ইসলামাবাদে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন। পরে উপজেলা ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে গার্ড অব অনার শেষে আকাশী গ্রাছের চারা রোপণ করেন তিনি।
২৬ আগস্ট, ২০২১।
