মতলব দক্ষিণে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণে কর্মী-সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
গতকাল মঙ্গলবার মতলব দক্ষিণ উপজেলার সম্মেলন কক্ষে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের মাসিক কর্মী-সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মতলব দক্ষিণ উপজেলার ইউএনও মো. শাহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, গ্রাম আদালত সক্রিয়করণের মাধ্যমে এলাকার সাধারণ মানুষের বিচারিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য গ্রাম আদালত সক্রিয়করণের কাজে যারা নিযুক্ত আছেন তাদের সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে কাজ করতে হবে। আমরা জানি গ্রাম আদালত সক্রিয়করণের পিছনে বেশ কিছু অন্তরায় আছে। এলাকার মানুষ যখন দ্বন্দ্বে-বিরোধে জড়িয়ে পড়ে তখন তারা সাধারণত এলাকার সালিসদারদের কাছে কিংবা মুরব্বিদের কাছে ছুটে যায়। আবার কখনো কখনো পুলিশ থানায় আসে। এছাড়া কোন কোন ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা এলাকায় সালিস-দরবার করেন। এসব অন্তরায় কাটাতে হলে গ্রাম আদালতের সুবিধাগুলো এলাকার মানুষদের বুঝাতে হবে যাতে তারা বিধি বহির্ভূত সালিসে জড়িয়ে না পড়ে। কারণ এগুলোর কোন আইনী ভিত্তি নেই।
তিনি আরো বলেন, সালিস-দরবারে কোন নথি সংরক্ষণ করা হয় না। এগুলো অনেক সময় বেআইনীভাবে সম্পন্ন করা হয়। তাই গ্রাম আদালতের প্রচার-প্রচারণা আরো বেগবান করতে হবে যাতে এলাকার মানুষ বিরোধে জড়িয়ে পড়লে তারা সরাসরি গ্রাম আদালতে ছুটে আসেন। গ্রাম আদালতে মামলা দায়েরের ফি খুবই সামান্য। ফৌজদারী মামলার জন্য ১০ টাকা ও দেওয়ানী মামলার জন্য ২০ টাকা মাত্র। এই নামমাত্র ফি দিয়ে বিচারপ্রার্থীগণ অতি সহজে বিচার পাবেন। আইনগতভাবে দেশের প্রতিটি নাগরিকের বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এ ব্যাপারে সব ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবদের কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে যাতে কেউ গ্রাম আদালতে বিচারের নামে অযথা কাল-ক্ষেপন ও হয়রানীর শিকার না হয়।
প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী মো. সগীর আহম্মেদ সরকারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন মতলব দক্ষিণ থানার অফিসা ইনচার্জ স্বপন কুমার আইচ।
সভায় আরো অংশগ্রহণ করেন ডিস্ট্রক্ট ফ্যাসিলিটেটর নিকোলাস বিশ্বাস এবং ব¬াস্টের জেলা সমন্বয়কারী মো. আমিনুর রহমান। সভায় মতলব দক্ষিণ, মতলব উত্তর এবং কচুয়া উপজেলার গ্রাম আদালত সহকারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।