মেহেদী হাসান সরকার
ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক, ঋতুরাজ বসন্ত পহেলা ফাল্গুন উদযাপিত হয়েছে। প্রকৃতির দক্ষিণা দুয়ারে বইছে ফাগুনের হাওয়া। কোকিলের কণ্ঠে বসন্তের আগমণী গান। ফুলে ফুলে ভ্রমরও করছে খেলা। গাছে গাছে পলাশ আর শিমুলের মেলা। সব কিছুই জানান দিয়েছে বসন্ত। ঋতুরাজকে স্বাগত জানিয়ে প্রকৃতির এতো বর্ণিল সাজ। বসন্তের এই দিনে প্রকৃতির সাথে তরুণ হৃদয়েও লেগেছে দোলা। সকল কুসংস্কারকে পেছনে ফেলে, বিভেদ ভুলে, নতুন কিছুর প্রত্যয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা নিয়ে বসন্তের উপস্থিতি। কবির ভাষায় ‘ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত’।
গতকাল বুধবার মতলব দক্ষিণ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও গ্রামে-গঞ্জে নারী-পুরুষরা হলুদ শাড়ি ও পাঞ্জাবী পড়ে পলাশ ও শিমুল ফুলের সৌন্দর্য্যে আবৃত হয়ে উঠেছে। অফিস পাড়া ও মহল্লায়ও লক্ষ্য করা গেছে বসন্ত উৎসবের আমেজ। মতলব বাজারের ফুলের দোকানগুলোতেও উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে।
উপজেলা মৎস্য অফিসে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার রুমার সহযোগিতায় মৎস্য অধিদপ্তরের ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীরা (মাঠ সংযুক্তি) পাকা বড়ই, কমলা, কলা, শষা ও শুকনা খাবার আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে বসন্ত উৎসব উদযাপন করেছে। প্রত্যেকেই হলুদ শাড়ি ও পাঞ্জাবী পড়ে এ উৎসবকে বরণ করেন।
এদিকে রয়মনেন নেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজে বসন্ত উৎসব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে উদযাপিত হয়েছে। কলেজের উপাধ্যক্ষ আফরোজা খাতুন মেরী, প্রভাষক চন্দনা রানী, জয়ন্তী সাহাসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিতিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অপরদিকে দক্ষিণ নারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও কোমলমতী শিক্ষার্থীরা এ উৎসব আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক জয়ন্তী রানীর উদ্যোগে কোমলমতী শিশুদের এক আনন্দঘন পরিবেশে বসন্ত উৎসব উদযাপন করা হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আবার কোনো কোনো স্থানে সংগীতের মধ্য দিয়ে বসন্তের শুভ সূচনা করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে বসন্ত উৎসব উদযাপন করেছে বলে জানা গেছে।
