শাহ্রাস্তিতে আ.লীগের সংবাদ সম্মেলন

গতকাল বুধবার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাহরাস্তি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান মিন্টু। -ইল্শেপাড়

নোমান হোসেন আখন্দ :
আওয়ামী পরিবারের নামে কথিত বিজয় র্যা লি ও সমাবেশে সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বিষয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শাহরাস্তি উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টায় দক্ষিণ ঠাকুর বাজার দলীয় অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাহরাস্তি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান মিন্টু।
তিনি লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে আওয়ামী পরিবারের নাম দিয়ে শাহ্রাস্তিতে যে ‘কথিত বিজয় র্যা লি ও সমাবেশ’ হয়েছে এ বিষয়ে আমরা শাহ্রাস্তি উপজেলা আওয়ামী লীগ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তারা বিজয় দিবসের কথা বলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী জননেন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ব্যবহার করে যে সমাবেশ করেছেন সেখানে প্রথম সারিতে বসা ছিল ৭১ সালের বদর বাহিনীর আঞ্চলিক কমান্ডার আড়াই বছর জেল খাটা অ্যাড. নাজমুল হুদা। সমাবেশের উদ্যোক্তা ছিল বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি, পালিয়ে থাকা ফাঁসির দ-প্রাপ্ত আসামি মেজর রাশেদের আত্মীয় ইঞ্জি. সফিকুর রহমান এবং ইতোপূর্বে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত একেএম ফজলুল হকসহ কতিপয় ব্যক্তি। বিজয় র্যা লির নামে অনুষ্ঠান করে শাহ্রাস্তি উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষায় কঠোর সমালোচনা করেন। অথচ সেখানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান ও মুক্তিযুদ্ধে বীরত্ব গাঁথা কোন ইতিহাস তারা তুলে ধরেননি।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন, শান্তি ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে একের পর এক সফলতা ও মানবতার স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ব যখন তাঁকে বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত করে বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে গৌরবান্বিত করে চলেছেন। মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে নি¤েœ বর্ণিত ব্যক্তিরা তাঁর অর্জনকৃত গৌরবান্বিত অধ্যায়ের প্রশংসা সূচক কোন বক্তব্য রাখেননি। উল্লেখিত ব্যক্তিরা হলেন- অধ্যাপক একেএম ফজলুল হক, সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগ, ইঞ্জি. সফিকুর রহমান, উপদেষ্টা, জেলা আওয়ামী লীগ, সফিকুর আলম ফিরোজ, সদস্য, বাংলাদেশ কৃষকলীগ, ইঞ্জিঃ মোহাম্মদ হোসেন, উপদেষ্টা, জেলা আওয়ামী লীগ, অধ্যাপক আব্দুর রশিদ, সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগ, হুমায়ন কবির মজুমদার, সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগ, মোশারফ হোসেন পাটওয়ারী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, শাহ্রাস্তি উপজেলা আওয়ামী লীগ।
বরং তারা প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তমের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকা-ের কোন চিত্র তুলে না ধরে এ সরকারের আমলে হাজীগঞ্জ- শাহ্রাস্তিতে কোন উন্নয়ন কর্মকা- হয়নি এমন সমালোচনায় মুখর ছিল। যা বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সমার্থক। সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তমের উন্নয়ন কর্মকা-ের তথ্য সংযুক্ত সীটে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এমতাবস্থায়, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য এবং ২০১৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের মনোনীত প্রার্থীকে বিজয় করার স্বার্থে শাহ্রাস্তি উপজেলা আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন এবং বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদউল্লাহ চৌধুরী, পৌর মেয়র হাজি আবদুল লতিফ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা কামাল মজুমদার, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জেডএম আনোয়ার, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মো. তোফায়েল আহম্মেদ ইরান, পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহবায়ক আবদুল মান্নান বেপারী, উপজেলা যুবলীগের উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি একেএম জসিম উদ্দিন জনি, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রেদোয়ান হোসেন সেন্টু, সাধারণ সম্পাদক বাহার উদ্দিন, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. কামাল হোসেন।
এসময় ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মেহের উত্তর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি হাজী জাবেদ, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম, মেহের দক্ষিণ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রুহুল আমিন, টামটা দক্ষিণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সফিকুর রহমান মজুমদার, টামটা উত্তর ইউনিয়ন আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক দিদার হোসেন পাটোয়ারী, চিতোষী পূর্ব ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি মো. আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মানিক, সূচীপাড়া দক্ষিণ ইউপি আ’লীগ সভাপতি গোলাম মোস্তফা, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ইমদাদুল হক মিলন ও সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল হোসেনসহ পৌর এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ।