
তৃণমূলে সংস্কৃতি বিকাশে উপজেলা শিল্পকলা ভবন নির্মিত হচ্ছে : জেলা প্রশাসক
মনিরুল ইসলাম মনির :
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সবুর মন্ডল গজরা ইউপি, ডিজিটাল তথ্য সেবা কেন্দ্র, গ্রাম আদালত ও ফিয়াক সেন্টার পরিদর্শন করেন। পরে শিল্পকলা একাডেমি নির্মাণ কাজ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্থান পরিদর্শন করেন। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে গজরা ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সবুর মন্ডল পরিদর্শনে এসে গ্রাম আদালত কক্ষ, ডিজিটাল তথ্য সেবা কেন্দ্র ও কৃষি পরামর্শ (ফিয়াক) সেন্টার পরিদর্শন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিউদ্দিন, গজরা ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ মো. হানিফ দর্জি, ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি মো. ছানাউল্লাহ মোল্লা, ইউপি সচিব মহিউদ্দিন আহমেদ সোহেল, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীন, মহিলা ইউপি সদস্য শাহনাজ পারভীন, খাদিজা ইসলাম, তাছলিমা বেগম, ইউপি সদস্য আবদুস সাত্তার প্রধান, সুরুজ মুন্সি, নুরুল ইসলাম, শহিদউল্লাহ প্রধান, জাহিদ হোসেন, শিপন সরকার, কবির হোসেন, মো. শাহ আলম, শাহজালাল মাষ্টার, তথ্য সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা আল-আমিন, গ্রাম আদালত সহকারী মো. সোহরাব হোসেন।
জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সবুর মন্ডল বলেন, বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপান্তরের জন্যে ইউনিয়ন পরিষদকে শক্তিশালী করতে ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদে এসে কোনো মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সে জন্যে ব্যাপক নির্দেশনা রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদে আগত জনসাধারণের সকল সেবা নিশ্চিত করার জন্যে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি আরো বলেন, এই ইউনিয়নে যেনো বাল্যবিবাহ না হয় সে দিকে সজাগ থাকতে হবে।
জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সবুর মন্ডল শিল্পকলা একাডেমির নির্মাণ কাজ পরিদর্শনের সময় বলেন, শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম জেলা হতে উপজেলা পর্যায়ে বিস্তত হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে ভাল মিলনায়তন, মুক্তমঞ্চ ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা না থাকার কারণে সংস্কৃতি চর্চা পিছিয়ে পড়ছিল। তৃনমূলে সংস্কৃতি বিকাশের জন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে উপজেলা শিল্পকলা ভবন নির্মিত হচ্ছে। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে গ্রাম পর্যায়ে নতুন প্রজন্ম তাদের মেধা বিকাশের সুযোগ পাবেন। এর ফলে তাদের মধ্য থেকে অসংখ্য শিল্পী, কলাকুশলী, অভিনেতা, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিসেবী জাতীয় পর্যায়ে এসে অবদান রাখতে পারবেন।
জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সবুর মন্ডল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্থান পরিদর্শনের সময় বলেন, দেশের নগরায়ন বিবেচনায় উপজেলাগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এসব উপজেলা সদরে হালকা ও মাঝারি ধরনের শিল্পকারখানা, বেসরকারি বিভিন্ন অফিস ভবন, স্কুল, কলেজ ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন অবকাঠামো রয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও উন্নয়ন মূলত উপজেলা শহরগুলোকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠছে। ফলে এখানে জনবসতিও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই অবকাঠামো ও জনগণের জানমাল অগ্নিকা- বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষায় ফায়ার সার্ভিসের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে। ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি উপজেলায় কমপক্ষে একটি করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন। সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন এবং নিরাপদ দেশ গঠনে ফায়ার সার্ভিসের ব্যাপ্তি বৃদ্ধি করা হচ্ছে। সেই লক্ষ্যে মতলব উত্তর উপজেলায়ও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপন করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন নির্মাণ কাজ শেষ হলে এ উপজেলাবাসী এ সেবা পাবে।
