সাংবাদিকদের সহযোগিতায় হাইমচরে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীর বাল্য বিবাহ থেকে রক্ষা

হাইমচর ব্যুরো :
হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের মাঝির বাজারের মোল্লা কান্দির ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী শামিমা আকতার সাংবাদিকদের সহযোগিতায় বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেয়েছে।
জানা যায়, নীলকমল ইউনিয়নের মোল্লাকান্দির মৃত শহীদ উল্লাহ ঢালীর এতিম মেয়ে, ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী শামিমার বিয়ের দিন ধার্য করা হয়েছিল গতকাল সোমবার। কিন্তু সে ঐ বিয়েতে রাজি না থাকায় অজানার উদ্দেশে পাড়ি জমাতে বাড়ি থেকে পালিয়ে আসে। এরই মধ্যে তার ভাই ও ভাবি উপজেলার আলগী বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুজি শুরু করে। মেয়েটির পরিবার এক পর্যায়ে সাংবাদিক সাহেদ হোসেন দিপু ও হাসান আল মামুনের শ্মরণাপন্ন হয়। সাংবাদিকরা তাদের কাছ থেকে শামিমার ছবি সংগ্রহকরণসহ বিয়ের সব তথ্য সংগ্রহ করে এবং সিএনজি চালকদের মাধ্যমে মেয়েটির বর্ণনা দিয়ে খোঁজাখুজি শুরু করে। সন্ধ্যায় মেয়েটিকে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা করার সময় একটি রিক্সায় পাওয়া যায়। পরে সাংবাদিকরা হাইমচর থানার এএসআই আ. সালাম মুন্সিকে খবর দিলে তিনি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং শামিমার অভিভাবকদের দ্রুত আলগীবাজারে নিয়ে আসলে এক পর্যায়ে সাংবাদিকরা প্রথমে মেয়েটিকে নিয়ে থানায় পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
গত ৩ ডিসেম্বর রাত ১২টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে শামিমার পরিবারের সদস্যদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে মেয়ের বিয়ের পূর্ণ বয়স না হওয়া পর্যন্ত তাকে বিয়ে দেয়া হবে না মর্মে সিদ্ধান্তে উপনিত হয়। এবং তার ভাই নদীতে মাছ ধরতে ব্যস্ত থাকায় পরিবারের দায়িত্বশীল অভিভাবক না থাকায় প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া এবং তার সুশিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির আহমেদের জিম্মায় দেয়া হয়। শামিমাকে বিয়েতে বাধ্য করার অভিযোগে উপজেলা নির্বাহঢ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম মোল্লাকান্দির মান্নান মালকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন হাইমচর থানার অফিসার ইনচার্জ রনোজিত রায়, পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর হোসেন, এএসআই আ. সালাম, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাসির আহমেদ, যুবলীগ নেতা নোয়াব মোল্লাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ।