স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও কচুয়ার কাঠালিয়া গ্রামে রাস্তা নেই

একটি রাস্তার জন্য হাজারো মানুষের দুর্বিষহ কষ্ট

ফয়সাল আহম্মেদ
মাধব সরকার পেশায় একজন মৎস্য ব্যবসায়ী। বয়স এখন ভাটির দিকে, ৫৮ পেরোলো। কিন্তু, তাকে দেখে এখনো মনে হয় তরুণ। সেই শৈশবকাল থেকে দেখে আসা যাতায়াতের কষ্ট যেন শেষ হয়নি আজও। শেষ বয়সে এসেও আধুনিক যুগে এমন দুর্বিষহ কষ্ট কাঠালিয়া গ্রামের মানুষের নিত্যদিনের ঘটনা। আক্ষেপ করে এমনটাই বলছিলেন- কচুয়া উপজেলার কাঠালিয়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা মাধব সরকার।
স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরোলেও যাতায়াতের জন্য একটি রাস্তা জোটেনি ওই গ্রামের মানুষের। কচুয়ার সহদেবপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত কচুয়া ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার সীমান্তবর্তী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের গ্রাম নামে পরিচিত কাঠালিয়া গ্রামটি। ১ হাজার ২শ’ জনসংখ্যার মধ্যে মোট ভোটার প্রায় ৩০০ জন। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ মংস্যজীবী ও কৃষি শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। গ্রামটিতে যাতায়াতের জন্য রাস্তা না থাকার কারণে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রামবাসীকে। বিশেষ করে কোমলমতী শিক্ষার্থীরা স্কুলে ও রোগীদের যাতায়াতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট ভোগ করতে হয়। গ্রামবাসী বর্ষা মৌসুমে কখনো ২০ টাকা দিয়ে নৌকায়, আবার কখনো হাঁটু বা কোমর পানিতে এবং গ্রীষ্ম মৌসুমে ইরি খেতের কর্দমাক্ত আইল দিয়ে যাতায়াত করছে।
পালাখাল রোস্তম আলী ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র চন্দ্রন সরকার বলেন, আমাদের গ্রামে যাতায়াতের জন্য কোন রাস্তা না থাকার কারণে আমার মতো অনেকেই সময়মতো স্কুল-কলেজে যেতে পারে না। এতে করে পড়ালেখায় আমরা অনেক পিছিয়ে যাচ্ছি। অতিদ্রুত যাতে রাস্তাটি নির্মাণ করে দেওয়া হয়। তাতে আমাদের লেখাপড়ার স্পৃহা বাড়বে।
কাঠালিয়া গ্রামের বাসিন্দা উপজেলার হিন্দু-বৌদ্ধ-ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক বিমল সরকার বলেন, আমাদের গ্রামটি একটি সীমান্তবর্তী গ্রাম হওয়ায় আমরা আজ অবহেলিত।
তিনি আরো বলেন, দুই উপজেলার মধ্য দিয়ে রাস্তাটি যাওয়ার ফলে, রাস্তাটি না হওয়ার লক্ষ্যে একটি পক্ষ আদালতে মামলা করলে রাস্তা নির্মাণ কাজ থমকে যায়। আধুনিক যুগেও একরকম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন জনপদের নাম কাঠালিয়া গ্রাম। আমাদের গ্রামের কতো নেতা আসলো ও গেলো- কিন্তু আমাদের দুঃখ-দুর্ভোগ কেউ দেখে না। এলাকার সচেতন মহলের দাবি, অতিদ্রুত যাতে সব প্রতিবন্ধকতা দূর করে সরকার রাস্তাটি নিমার্ণের ব্যবস্থাগ্রহণ করে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীর বলেন, কচুয়া উপজেলাসহ সারা দেশে অসম উন্নয়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আমরা আশা করছি কাঠালিয়া গ্রামের রাস্তাটি অতিদ্রুত নির্মাণ শুরু করতে পারবো।
উপজেলা চেয়ারম্যান শাহাজাহান শিশির বলেন, উপজেলা চেয়াারম্যান নির্বচিত হওযার পরে আমি দুইবার কাঠাালিয়া গ্রাম পরিদর্শন করি। রাস্তা না থাকায় আমি ও আমার সাথের লোকজন ওই গ্রামে যেতে অনেক বেগ পেতে হয়। রাতে গ্রামবাসীর চলাচলের সুবিধার জন্য আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৪টি সৌরবিদ্যুতের বাতির ব্যবস্থা করে দেই। আমি তাদের সমস্যার কথা শুনেছি। কাঠলিয়া গ্রামের মানুষ অনেক কষ্টে যাতায়াত করে। তাদের দুর্ভোগ নিরসনের জন্য আমরা জোরালো চেষ্ট করছি। তবে কিছু প্রতিবন্ধকতা তো থাকেই। সব বাঁধা উপেক্ষা করে অচিরেই আমরা একটি সুখবর তাদের দিতে পারবো বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

১৪ নভেম্বর, ২০২২।