অনলাইন সাংবাদিক পরিচয়ে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার
নাম তার ইমরান হোসেন, ছদ্মনাম রুদ্র ইমরান। নব্য আওয়ামী লীগ হয়ে এ নামেই নতুন পরিচিতি। হাইমচর উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলো এই ইমরান। জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল হওয়ার পর নিজের নাম পাল্টে রেখেছে রুদ্র ইমরান। সেজেছে নব্য আওয়ামী লীগার। আবার অনলাইন সাংবাদিক হিসেবেও সে পরিচয় দিতো। তথাকথিত অনলাইন প্রেসক্লাবের সদস্য সে। আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সাথে ছবি তুলে তা ফেইসবুকে পোস্ট করে নিজেকে আওয়ামী লীগার হিসেবে জাহির করে আসছিলো এই রুদ্র ইমরান। সর্বশেষ গত রোববারও (১ নভেম্বর) চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদককে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছে এই শিবির নেতা!
শুধু তাই নয়, নামে-বেনামের বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যমের প্রতিনিধির পরিচয়ে চাঁদপুরের তথাকথিত ‘অনলাইন প্রেসক্লাবের’ কার্যকরী কমিটির সদস্যও সে। এ সংগঠনকে পুঁজি করেই জেলার বিভিন্ন আসনের এমপি, মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা, বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি এবং ডিসি, এসপির সাথে ঘন ঘন দেখা করা আর ছবি তুলে ফেইসবুকে পোস্ট করাই তার কাজ।
অথচ সে ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী বিএনপি-জামায়াত জোটের জ্বালা-পোড়াও-ভাংচুর-নাশকতার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। সেই ওয়ারেন্টের সূত্র ধরেই অবশেষে তাকে আটক করেছে হাইমচর থানা পুলিশ। চাঁদপুর আদালত হয়ে তার ঠিকানা এখন জেলা কারাগারে।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে হাইমচর থানার এএসআই আব্দুল খালেক ও প্রাণকৃষ্ণের যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। ঢাকার পল্টন থানায় দায়েরকৃত জালাও-পোড়াও-নাশকতার মামলার (নং ২৬/২০১৩খ্রিঃ) ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে হাইমচরের সদর আলগী বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আলগী উত্তর ইউনিয়নের নয়ানী গ্রামের আনোয়ার হোসেনের পুত্র এই শিবির নেতা ইমরান হোসেন ওরফে রুদ্র ইমরান। সে দীর্ঘদিন জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গ সংগঠন ছাত্রশিবিরের হাইমচর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে।
শিবিরের দায়িত্বে থাকাকালীন ইমরান হোসেন ঢাকা, চাঁদপুর ও হাইমচরের বিভিন্ন স্থানে সরকার বিরোধী জ্বালাও পোড়াও-ভাংচুরসহ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলো। গাড়ি ভাংচুর ও দোকানপাটে আগুন দেয়া তার নিত্যদিনের রুটিন ছিল।
জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করা হলে ইমরান হোসেন ‘রুদ্র ইমরান’ নাম ধারণ করে আওয়ামী লীগ সমর্থক সাজে। পাশাপাশি অনলাইন নিউজ পোর্টালের কার্ড দেখিয়ে সাংবাদিকতার নামে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রুদ্র ইমরান নামধারী এই শিবির নেতা ২০১২-২০১৩ সালে বিএনপির ডাকা টানা অবরোধের সময় ঢাকায় ব্যাপক ভাঙচুর ও জ্বালাও পোড়াও করে। এতদিন সে আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দম্ভ করে চলছিলো। সাংবাদিকতার নাম ভাঙ্গিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে দাপিয়ে বেড়িয়েছে।
তার ফেসবুক টাইমলাইনে উল্লেখ রয়েছে বহু পদ-পদবি। নেই কেবল সাবেক শিবির নেতার পরিচয়। টাইমলাইন অনুযায়ী এই রুদ্র ইমরান দি ডেইলি ক্যাম্পাস পত্রিকার প্রতিনিধি, চাঁদপুর টুডে ডট কম অনলাইনের নির্বাহী সম্পাদক, চাঁদপুরস্থ প্রথম আলো বন্ধুসভার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, বিবার্তা ২৪. নেট-এর প্রতিনিধি, সংসদীয় আসন চাঁদপুর-৩-এর আমার এমপির প্রতিনিধি।
হাইমচর উপজেলা ছাত্রলীগের সদ্যবিদায়ী সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, ইমরান হোসেন ওরফে রুদ্র ইমরান উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি হাইমচর, চাঁদপুর ও ঢাকায় বিভিন্ন নাশকতায় জড়িত ছিলেন।
হাইমচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল ইসলাম খান বলেন, ২০১৩ সালে ঢাকায় পুলিশ এসল্ট ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে তাকে আটক করা হয়েছে। এরপর তাকে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।
০৩ নভেম্বর, ২০২০।
