হাইমচর মধ্যচরের মাটি বিক্রি হচ্ছে মুন্সীগঞ্জ ব্রিকফিল্ডে

স্থানীয় চেয়ারম্যানের সহযোগী মাটিখেকো চক্রের কুনজর

সাহেদ হোসেন দিপু
হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের ৭ ও ৮নং ওয়ার্ডের মাঝি কান্দি এলাকার মাটি মুন্সীগঞ্জের একটি ব্রিকফিল্ডে বিক্রি করে যাচ্ছেন স্থানীয় মাটিখেকোরা। যার ফলে নীলকমল ইউনিয়নের মানচিত্র থেকে বিলীন হয়ে যাচ্ছে এ দুটি ওয়ার্ড। এ বালুখেকোদের হাত থেকে নীলকমল ইউনিয়নকে রক্ষা করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে তাদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান এলাকাবাসী।
মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন। মাটিখেকোরা তাঁর আসার খবর পেয়ে তারা পালিয়ে যায়। তিনি চলে আসার পর এই চক্রটি আবারো মাটি কাটার প্রস্তুতি নেয়। রাতের আঁধারে মাটি কাটবে বলে সংবাদ পাওয়া যায়।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাইমচর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩টি ইউনিয়ন নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ৩টি ইউনিয়ন কাগজে-কলমে থাকলেও ঐ তিনটি ইউনিয়নের বেশিরভাগই এখন নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে। নীলকমল ইউনিয়নে যেটুকু জায়গা রয়েছে সেটুকুতেও কুনজর পড়েছে স্থানীয় কিছু মাটিখেকোর। দিনে-দুপুরে ৪টি ভ্যেকু দিয়ে কয়েকটি জাহাজে করে প্রতিদিনই বিক্রি করছে মাটি। যার ফলে মানচিত্র থেকে বিলীনের পথে রয়েছে নীলকমল ইউনিয়ন। অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণাকৃত এ মধ্যচরের মাটি কেটে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার মত জঘণ্যতম কাজ করছে এ মাটিখেকো চক্রটি। এ মাটি কাটার সাথে জড়িত স্থানীয় ফারুক মোল্লা ও রনি বেপারী। যারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সউদ আল নাসেরের একান্তই কাছের লোক। যার কারণে ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারছে না স্থানীয় লোকজন।
নাম বলতে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন ক্ষোভ পোকাশ করে বলেন, আমাদের এলাকার ফসলী জমি থেকে জোর করে কেটে নিয়ে যাচ্ছে চেয়ারম্যান সউদের লোক- ফারুক মোল্লা ও রনি বেপারীর নেতৃত্বে আরও কয়েকজন। তারা ৪টি ভ্যেকু দিয়ে মাটি কেটে জাহাজে করে নিয়ে মুন্সীগঞ্জে মাটি বিক্রি করছে। যার কারণে আমাদের গ্রামটা এখন বিলীনের পথে। আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি এবং এ চরের মাটি বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাগ্রহণ করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
৯নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য বাচ্ছু সরকার জানান, আমার পাশের ওয়ার্ডের মাঝিকান্দি গ্রামের মাটি অন্যত্র বিক্রি করার কারণে গ্রামটি বিলুপ্তির পথে। যা অত্যান্ত দুঃখজনক বিষয়। কে বা কারা এ মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে এবং মুন্সীগঞ্জে বিক্রি করছে- এটা সবারই জানা। তবে গ্রামটি রক্ষার স্বার্থে এ মাটি কাটা বন্ধ করা প্রয়োজন।
৭নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য রতন জানান, আমার ওয়ার্ডে মাটি কাটার সংবাদ পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্যার এবং বায়ারচর ফাঁড়ি থানাকে জানাই। আজ তিনি এসেছিলেন। স্যার আসার সংবাদ পেয়ে সবকিছু নিয়ে তারা পালিয়ে যায়।
নীলকমল ইউপি চেয়ারম্যান সউদ আল নাসের বলেন, এ ইউনিয়নের কিছু লোক তাদের জমির মাটি বিক্রি করেছে। কেউ যদি তার জমির মাটি বিক্রি করে আমরা কি করতে পারি? চরাঞ্চলের ফসলি মাটি বিক্রি করা কি বৈধ নাকি অবৈধ- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা অবৈধ। তাই আমি তাদের মাটি কাটতে নিষেধ করেছি। কারা মাটি কাটে এ বিষয়ে তিনি কিছু বলতে চাননি।
অভিযুক্ত ফারুক মোল্লা বলেন, আমরা ৪/৫ দিন মাটি কেটেছি। আজ এসি-ল্যান্ড এসে নিষেধ করেছেন। তাই আমরা আর মাটি কাটবো না।

০৮ নভেম্বর, ২০২২।