এসএসসি পরীক্ষায় বাংলা ১ম পত্র বিষয়ে ২০১৯ সিলেবাসের পরিবর্তে
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
সারা দেশের মতো হাজীগঞ্জে ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত বাংলা ১ম পত্রের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষায় উপজেলার দু’টি কেন্দ্রের মধ্যে বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থীর ২০১৯ সালের সিলেবাসের পরিবর্তে ২০১৮ সালের সিলেবাস অনুযায়ী এসমিকিউ পরীক্ষা নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কেন্দ্র দু’টি হলো- হাজীগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়।
তবে এ ঘটনায় পরীক্ষার্থীর কোন সমস্যা হবে না বলে, নিশ্চিত করলেও কোন অভিভাবক লিখিত অভিযোগ দিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড কন্ট্রোলার আসাছুজ্জামান। গত শনিবার দুপুরে একজন সংবাদকর্মী তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে, তিনি এ কথা বলেন।
অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, হাজীগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত দু’টি হলরুমের পরীক্ষার্থীদের এমসিকিউ’র প্রশ্ন বিলি করতে গিয়ে ২০১৯ সালের সিলেবাসের পরিবর্তে ১৯ সালের বেশ কয়েকজন পরীক্ষীর্থীকে ২০১৮ সালের সিলেবাসের প্রশ্ন দেয়া হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে বিষয়টি কয়েকজন পরীক্ষার্থীর নজরে এলে, তারা স্ব-স্ব হল পর্যবেক্ষকদের জানালে প্রশ্ন পরিবর্তন করে দেয়া হয়। কিন্তু এর মধ্যে একই প্রশ্নে কয়েকজন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা সম্পন্ন হয়ে যায়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী একজন পরীক্ষার্থীর মা শাহেদা বেগম জানান, আমার মেয়ে ২০১৯ সালের সিলেবাসের মানবিক বিভাগের পরীক্ষার্থী। সে ২০১৮ সালের সিলেবাস অনুযায়ী বাংলা ১ম পত্রের এমসিকিউ পরীক্ষা দিয়েছে। এ সময় তিনি ও তার মেয়ে (পরীক্ষার্থী) কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, এমসিকিউ প্রশ্ন দেয়ার কিছুক্ষণ পর বিষয়টি নজরে আসে। তারপর আমি হল পর্যবেক্ষক স্যারকে বিষয়টি জানালে, তারা আমাকে আবারো একই প্রশ্ন এনে দেন। তারপর পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে থাকা একজন ম্যাডাম বলেন কোন সমস্যা হবে না, তুমি পরীক্ষা দাও। একই অভিযোগ করেন ফারহানা ও রুবি নামের দু’জন পরীক্ষার্থীসহ কয়েকজন।
এদিকে রামপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রেও একই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ওই কেন্দ্রের বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থী প্রশ্ন পরিবর্তনের বিষয়টি নজরে আসলে, তারা কেন্দ্র সচিবের সাথে তাৎখনিক যোগাযোগ করেন। এ বিষয়ে কেন্দ্র সচিব কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের দায়িত্বরতদের সাথে যোগাযোগ করে পরীক্ষার্থীদের জানান, কোন সমস্যা হবে না।
এ বিষয়ে রামপুর উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব ও রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কবির হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সমাধান হয়ে গেছে।
হাজীগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব ও উপজেলা একাডেমিক সুপাভাইজার সুর্ণিমল দেউড়ি জানান, যে সমস্যা হয়েছে, তা পরীক্ষার শুরুতেই সমাধান করে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পরীক্ষার খাতা (কাগজ) বান্ডেল করার সময় সিলেবাসের সাল অনুযায়ী আলাদা আলাদা বান্ডেল করা হবে।
উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন জানান, ওই কেন্দ্রের (রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়) কেন্দ্র সচিব বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে কোন সমস্যা হবে না বলে, বোর্ড তাদের নিশ্চিত করেছেন বলে, তারা আমাকে জানান।
হাজীগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে যে দু’টি কক্ষে সমস্যা হয়েছে, তা সাথে সাথেই সমাধান করে দেয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, দু’একটি পরিবর্তন ছাড়া সিলেবাস একই। এতে পরীক্ষার্থীদের কোন সমস্যা হবে না। তিনি জানান, ওই রুমে যে শিক্ষক প্রশ্ন বিতরণ করেছেন তাকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
কুমিল্লা বোর্ড কন্ট্রোলার আসাছুজ্জামানের সাথে একজন সংবাদকর্মীর মুঠোফোনে যোগাযোগ হলে পরীক্ষার্থীর কোন সমস্যা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাল ঠিক রাখলে এবং সাল অনুযায়ী খাতা ব্যান্ডেল করে দিলে পরীক্ষার্থীর কোন ক্ষতি হবে না। তিনি জানান, কোন অভিভাবক লিখিত অভিযোগ দিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
