হাজীগঞ্জে মাথা গোঁজার ঠাঁই হলো আরো ১৫ পরিবারের

সাংসদের পক্ষে বসতঘর বুঝিয়ে দিলেন ইউএনও

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় জমি ও নির্মিত সেমিপাকা ঘর পেয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই হলো ভূমিহীন ও গৃহহীন আরো ১৫ পরিবারের। তাদের চোখে-মুখে এখন হাসি-খুশির ঝিলিক। তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন স্বপ্নের সেই ঘর সাজানোর কাজে। আর মনের মাধুরি মিশিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন একটু সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার।
যে মানুষগুলো রোদ, বৃষ্টি, ঝড় মাথায় নিয়ে আশ্রয়হীন অবস্থায় কোন রকম দিন কাটাতেন সে মানুষগুলো আজ প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে নিজেদের মালিকানাধীন ভূমিসহ বসতঘর বসবাস শুরু করছেন। যেখানে রয়েছে দুই কক্ষবিশিষ্ট সেমিপাকা ঘর, বারান্দা, রান্নাঘর ও টয়লেট। রয়েছে বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা। যা ছিলো এক সময় তাদের কাছে রুপকথার গল্পের মতো। অথচ তা আজ বাস্তব।
সরকারের এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে জমিসহ একেকটি ঘর যেন একেকজন ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের বাস্তবে পরিণত হওয়া আকাশছোঁয়া এক রঙিন স্বপ্ন। নিজেদের এক খন্ড জমি। তার উপর পাকা সেমিপাকা দালানঘর, এটি তারা কখনো কল্পনাও করেনি। তাদের হয়ে সে স্বপ্ন দেখেছেন, আবার তা বাস্তবায়নও করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বপ্নের জমিসহ ঘর পাওয়ার আনন্দে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।
জানা গেছে, হাজীগঞ্জে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাউরপাড় গ্রামে সরকারের ক্রয়কৃত ৬০ শতাংশ ভূমির উপর নির্মিত ১৫টি সেমিপাকা বসতঘর জমিসহ চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তমের পক্ষে বুঝিয়ে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম। এসময় শিশু-কিশোরদের হাতে শিশু খাদ্য তুলে দেন তিনি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না- মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দেশব্যাপী ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পুনর্বাসনের ধারাবাহিকতায় করোনা মহামারীর সব বাঁধা উপেক্ষা করে সরকারি প্রাক্কলন ও ডিজাইন মোতাবেক বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে হাজীগঞ্জ উপজেলায় ১ম পর্যায়ে ঘর প্রতি ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১ম পর্যায়ে ৫টি বসতঘর বুঝিয়ে দেয়া হয়।
এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে ঘর প্রতি ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা বরাদ্দে নির্মিত ৪টিসহ মোট ৯টি ঘর উপকারভোগীদের বুঝিয়ে দেয়া হয়। যা উপজেলার গ্রোথ সেন্টার থেকে নিকটবর্তী স্থানে এবং যাতায়াতের সুবিধা আছে এমন ২ শতক জমিতে নির্মিত ইটের প্রতিটি ঘরে রয়েছে বারান্দাসহ ২টি কক্ষ, ১টি রান্না ঘর ও ১টি টয়লেট। এছাড়া রয়েছে সুপেয় পানি ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা।
পরবর্তীতে উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাউরপাড় গ্রামে সরকারের ক্রয়কৃত ৬০ শতাংশ ভূমির উপর নির্মিত ১৫টি সেমিপাকা বসতঘর জমিসহ বুঝিয়ে দেয়া হয়। এখানে আরো ৬টি বসতঘর নির্মাণ করা হবে। এ নিয়ে গত পাঁচ বছরে হাজীগঞ্জে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রায় ৬ শতাধিক বসতঘর গৃহহীন পরিবারের মাঝে প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে জমিসহ সেমিপাকা ঘরে ২৪ জন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার রয়েছে।
এসময় উপকারভোগীদের সাথে কথা হলে তারা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা জানান, নিজস্ব ভূমি বলতে তাদের কিছুই ছিল না। কেউ অন্যের থাকতে দেয়া বসতঘরে, আবার কেউ ভাড়া বাসা নিয়ে বসবাস করতেন। নিজের একখন্ড জমি (ভূমি) সহ ঘর, তাও আবার সেমিপাকা। যা ছিল, তাদের জন্য অকল্পনীয় ও অবাস্তব স্বপ্ন। কারণ, যেখানে জীবিকা নির্বাহ করাটাই ছিল কষ্টকর, সেখানে নিজের জমিসহ বসতঘর। তা কি করে হবে?
কিন্তু, না তাদের স্বপ্ন দেখাটা অকল্পনীয় বা অবাস্তব নয়। তারা এখন, জমিসহ সেমিপাকা বসতঘরের মালিক। যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছেন। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে তাঁর দেওয়া ২ শতাংশ জমিসহ সেমিপাকা (দালান) ঘরের মালিক এসব ভূমিহীন মানুষেরা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. জাকির হোসাইন জানান, সাংসদের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও সহযোগিতায় ক্লান্তিহীন যাত্রায় সব বাঁধা পেরিয়ে আমরা আরো ১৫জন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করতে পেরেছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সাংসদ মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তমের সহযোগিতায় এবং জেলা প্রশাসক কামরুল হাসানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে টিমের প্রতিটি সদস্য এই কাজটি মন থেকে ভালোবেসে, সততা এবং স্বচ্ছতার সাথে করে যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ৬০ শতাংশ জমি ক্রয়, ঘর নির্মাণ এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মালিকানার দলিলাদি হস্তান্তর পর্যন্ত এই মহতী কাজের প্রতিটি পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্মিলিত প্রয়াসের ফলেই ইতোমধ্যে এই ১৫টি পরিবারের মুখে আমরা হাসি ফোটাতে সক্ষম হয়েছি। এখানে আরো ৬ জন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ সেমিপাকা বসতঘর প্রদান করা হবে।

১৩ ডিসেম্বর, ২০২২।