স্টাফ রিপোর্টার
আসন্ন চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে দিনব্যাপী গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করেছেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল থেকে তিনি ২নং ওয়ার্ডের কবরস্থান রোড, বালুর মাঠ, বউ বাজার, ভাওয়াল বাড়ি, ইউসুফ গাজী বাড়ি, পশ্চিম জাফরাবাদ বর্ধিত অংশের দর্জি বাড়ি, ঘোষপাড়া দুর্গা ও শীতলা মন্দির, হরিসভা মন্দির কমপ্লেক্সে উঠান বৈঠকে বক্তব্য রাখেন।
উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর পৌরসভার ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ মো. ইউসুফ গাজী। তিনি বলেন, গান-বাজনা কিছুই হয় না। হয় ঔষধ বিক্রি। ১৯৯৫ সালে যখন চাঁদপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে তখন পৌর এলাকায় একটাই শব্দ উচ্চারণ হয়েছিল নিজের খেয়ে মোমবাতি। এ বছরও একটাই স্লোগান তুলুন অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েলে জন্য। আমি নির্বাচন করে পৌরসভায় ও উপজেলায় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছি।
তিনি আরো বলেন, এ বছর চাঁদপুর পৌরসভায় ৩ জন মেয়র প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রাথী জিল্লুর রহমান জুয়েল যোগ্য ব্যক্তি। তাকেই আপনারা নির্বাচিত করবেন। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর যেমনিভাবে আমার সাথে আপনারা কথা বলেছেন ঠিক তেমনিভাবে জিল্লুর রহমান জুয়েলের সাথে কথা বলতে পারবেন। সরকার হলো আওয়ামী লীগের। অন্য দলের কেউ মেয়র হলে পৌর নাগরিকরা সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। এই নৌকা কী দিয়েছে, স্বাধীনতা।
তিনি বলেন, অনেকে বলে কেন্দ্রে না গেলে ভোট হয়ে যাবে। না এ বছর ভোট পদ্ধতি ভিন্ন। আঙ্গুলের ছাপ না দিলে মেশিন খুলবে না। তাহলে ভোট কেন্দ্রে আপনাদের যেতে হবে। নৌকায় ভোট দিলে আপনাদের এলাকার উন্নয়ন হবে। আমার আমলে চাঁদপুর পুরাণবাজার নতুনবাজার সেতু হয়েছে। এখন সুফল ভোগ করে চাঁদপুরবাসী। নতুন জামাই হিসেবে চাঁদপুর পৌরসভায় আমরা জুয়েলকে এ বছর পেয়েছি। আমরা আগের জামাই হয়ে পুরনো হয়ে গেছি। আগামি ১০ অক্টোবর ভোট কেন্দ্রে যাবেন। অন্যকে ভোট দিতে বাধ্য করবেন।
মেয়র প্রার্থী অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল বলেন, আমি শেখ হাসিনার প্রার্থী। এ প্রথম দলীয় প্রতীকে চাঁদপুর পৌরসভায় নির্বাচন করছি। নৌকা এমন একটা প্রতীক ১৯৬৯ সালে নির্বাচনে বিজয়ী হয়েও রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে পারেনি। এটি হচ্ছে স্বাধীনতার প্রতীক। নৌকা উন্নয়নের প্রতীক। আমি আগে নির্বাচন করেনি। আমার সৌভাগ্য হয়নি। এই প্রথম নির্বাচন করছি। যে ওয়াদা রাখতে পারব সেই ওয়াদাই করছি।
তিনি আরো বলেন, আমার পিতার বয়স ৯৫ বছর। তিনি নূরিয়া স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন। ‘৬৯ সালে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। তারপর তিনি এই পুরাণবাজারেই ব্যবসা শুরু করেন। তাই পুরাণবাজারের সাথে আমার হৃদয়ের সম্পর্ক রয়েছে। ১২৪ বছরের পুরনো পৌরসভা এটি। পুরাণবাজার বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল। তখন একে বলা হত আসাম বেঙ্গল গেটওয়ে। আমি নির্বাচিত হলে পুরাণবাজারে বাণিজ্যিক প্রাণ ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করব। পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে চাঁদপুর শহর। পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সংসদের প্রস্তাবনা দিয়েছেন। আমি নির্বাচিত হতে পারলে এই চাঁদপুরকে নান্দনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলব। পৌরবাসীর দাবি হলো রাস্তা-ঘাট, ড্রেনের সমস্যা দূরীকরণ। আমি নির্বাচিত হলে সরকারের কাছ থেকে সহায়তা এনে নগরবাসীর উন্নয়নে কাজ করব।
ইউসুফ মিজির সভাপতিত্বে এবং উজ্জল তালুকদার ও নজরুল হাওলাদারের যৌথ পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংঠগনিক সম্পাদক তাফাজ্জল হোসেন পাটওয়ারী এসডু, জেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক সালাউদ্দিন মো. বাবর, পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাধা গোবিন্দ গোপ, সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান বাবুল।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন হাইমচর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান পেদা, বাগাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বিল্লাল, চান্দ্রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খান জাহান আলী কালু পাটওয়ারীসহ আরো অনেকে।
৬ অক্টোবর, ২০২০।
