মনিরুল ইসলাম মনির
পত্রিকার পাঠক মহল এক নামে চেনেন তার নাম হলো ‘গিয়াস উদ্দিন কাজী’। যাকে পত্রিকার বিক্রেতা বলে চেনেন এমনকি তাকে অনেক সময় ডাকা হয় ‘এই পেপার’, ‘ওই পত্রিকা’ ইত্যাদি নামে।
দীর্ঘ ৪২ বছর পত্রিকা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করলেও বর্তমানে চরম অর্থকষ্টে দিনাতিপাত করছেন মতলব উত্তর উপজেলার সংবাদপত্র বিক্রেতা গিয়াস উদ্দিন কাজী। ঝড়-বৃষ্টি ও প্রচণ্ড রোদ উপেক্ষা করে বিরামহীন ছুটে চলা গিয়াস উদ্দিন প্রতিদিনের তাজা খবর নিয়ে ছুটে চললেও তার খবর রাখে না কেউ।
উপজেলা সদর ছেংগারচর বাজারে কথা হয় গিয়াস উদ্দিনের সাথে। আলাপকালে গিয়াস উদ্দিন তার চরম দুর্দিনের কথা তুলে ধরে বলেন, স্ত্রী, দুই মেয়ে ও দুই ছেলে নিয়ে তার সংসার। উপজেলার ছেঙ্গারচর পৌরসভার কলাকান্দায় সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্ত দুই কক্ষের ছোট্ট টিনের ঘরে তার বসবাস। শারীরিক নানা রোগ ব্যাধি নিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পরিশ্রম করে পত্রিকা বিক্রি থেকে প্রাপ্ত কমিশন নিয়ে সংসার পরিচালনা করতে হয় তাকে। দৈনিক ইলশেপাড়, আজকের পত্রিকা, যুগান্তর, ইনকিলাব, ইত্তেফাক সহ পুরনো পত্রিকাগুলোর সাথে নতুন অন্যান্য পত্রিকা বিক্রি করছেন। তিনি ৪২ বছর আগে নারায়ণগঞ্জ থেকে লঞ্চে পত্রিকা বিক্রি শুরু করেন।
প্রতিদিন পত্রিকা আসার সাথে সাথে উপজেলা প্রশাসনের সব দফতরে দেশের নানা খবর নিয়ে ছাপা পত্রিকা কপি নিয়ে হাজির হন গিয়াস উদ্দিন। প্রতিদিন সকাল হলেই উপজেলার কর্মকর্তা ও পাঠকরা সংবাদপত্র বিক্রেতা গিয়াস উদ্দিনের আসার অপেক্ষায় থাকেন।
তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে ছেলে মিজান। বাবার কাজে সহায়তা করতে এসে দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে। পরে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন।
বর্তমান ডিজিটাল সময়ে এসে প্রিন্ট পত্রিকার চাহিদা কম থাকায় আয় নেই বললেই চলে। পত্রিকা বিক্রি থেকে যা আসে তা নিয়ে তার সংসার চালানো এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের কাপড় বা অন্য জিনিসপত্র কেনা গিয়াস উদ্দিনের জন্য সম্পূর্ণ কাল্পনিক বিষয়।
তার বসতবাড়ির দুরাবস্থা দেখে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সরকারের আশ্রয়ন প্রকল্প থেকে একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দেয়া হলেও খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন প্রায় ৭০ বছর বয়সী গিয়াস উদ্দিন কাজী।
জীবনের এ পর্যায়ে এসে গিয়াস উদ্দিন বলেন, শারীরিক অক্ষমতা তাকে পেয়ে বসেছে। টাকার অভাবে ন্যূনতম চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে পারছেন না তিনি। এলাকার বিত্তশালী ও পত্রিকা কর্তৃপক্ষের কাছে তার আকুল আবেদন আর্থিক সহায়তা পেলে চিকিৎসা নিয়ে আবারো পত্রিকা বিক্রির কাজে নিয়মিত যোগদান করতে পারবেন গিয়াস উদ্দিন। পরিবারের দু’বেলা দু’মুঠো খাবার যোগান দিতে পারবেন গিয়াস উদ্দিন কাজী।
১৪ অক্টোবর, ২০২১।
