রামগঞ্জ থেকে অপহরণ হওয়া কিশোরীকে চাঁদপুরে উদ্ধার

৪ দিন পর মায়ের কাছে হস্তান্তর
স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুরে অপহৃত কিশোরীকে পুলিশ উদ্ধার করে ৪ দিন পর মায়ের কাছে হস্তান্তর করেছে। চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ইবরাহিম খলিলসহ পুলিশ কর্মকর্তারা।
জানা যায়, কিশোরী উদ্ধার হওয়ার পর অভিভাবক গরিব হওয়ায় তাকে নিতে আসার গাড়ি ভাড়া তাদের কাছে ছিল না। এ খবর শুনে চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ইবরাহিম খলিলের নির্দেশে এসআই আওলাদ ব্যক্তিগত তহবিল থেকে কিশোরীর মায়ের কাছে বিকাশে টাকা পাঠান। সে টাকা পেয়ে গতকাল সোমবার বিকেলে অপহরণ হওয়া কিশোরী নাছিমা আক্তার (১৪) কে অবশেষে তার মা হালিমা বেগমের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কিশোরী নাছিমা আক্তারকে গত বৃহস্পতিবার চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের মহামায়া বাজার এলাকায় থেকে চাঁদপুর সদর মডেল থানার পুলিশ উদ্ধার করে। সে গত ১৫ দিন আগে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হয়।
অপহৃতা কিশোরী নাছিমা জানায়, তাদের বাড়ী লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার পশ্চিম বিঘা গ্রামে। তার বাবা শাহআলম মারা যাবার পর মা হালিমার বিয়ে হয় একই গ্রামের দিনমজুর মনির হোসেনের সাথে। কিশোরী নাছিমা মায়ের কাছেই থাকতো। ঘটনার দিন তার মা তাকে বাড়িতে একা রেখে নানার বাড়িতে বেড়াতে যায়। এর’ই ফাঁকে কিশোরী বাড়ি থেকে একা বের হয়ে বাড়ির পাশের রাস্তায় যায়। সেখান থেকে একদল যুবক তাকে গাড়িতে উঠিয়ে অপহরণ করে চাঁদপুর নিয়ে আসে। পরে এক পর্যায়ে চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের মহামায়া বাজার এলাকায় রেখে পালিয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার রাতে মডেল থানা পুলিশ ডিউটিতে গেলে মহামায়া বাজার এলাকায় কিশোরীকে কাঁদতে দেখে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তার পরিবারের মোবাইল নম্বরে ফোন করে চাঁদপুর মডেল থানায় এসে তাদের মেয়েকে নেয়ার জন্য বলে। এদিকে কিশোরীর পরিবার হতদরিদ্র হওয়ায় টাকার অভাবে গাড়ি ভাড়া জোগার করতে না পারায় চাঁদপুরে আসতে দেরি হয়। মায়ের কাছে যেতে না পেরে কিশোরী থানায় অজোর ধারায় কাঁদতে-কাঁদতে কিশোরী তার মাথা নিজেই মডেল থানার দেয়ালের সাথে আঘাত করে ফাঁটিয়ে ফেলে। পরে পুলিশ তাকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করে সুস্থ করে তোলে। তাকে নিতে আসা মায়ের কাছে গাড়ি ভাড়া তাদের কাছে ছিল না। এ খবর শুনে চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইবরাহিম খলিলের নির্দেশে এসআই আওলাদ নিজের ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে কিশোরীর মায়ের কাছে বিকাশে টাকা পাঠান। সে টাকা পেয়ে গতকাল সোমবার বিকেলে কিশোরী নাছিমা আক্তারকে তার মা হালিমা বেগমের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।