জীবন সায়াহ্নে এসে জেলের ঘানি টানছেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব

ফরিদগঞ্জ ব্যুরো
একাধারে তিনি ফরিদগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, তিনবারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন শেখ মোহাম্মদ আব্দুর রব।
নব্বইয়ের এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় তাঁকে জেলে যেতে হয়েছিলো। কারাগারে থেকেই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়ে জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনগণের মাঝে ফিরে এসেছিলেন। তার সততা ও যোগ্যতার কারণে জনগণ তাকে বিপুল ভোটে তিনবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছিলেন। পুরো উপজেলায় তাকে রব শেখ নামে আপামর জনতা এক নামে চিনে। দলের দুর্যোগময় মুহূর্তে আওয়ামী লীগের সুদিন আসবে কি-না তার যখন কোনো নিশ্চয়তা ছিলো না তখন ১৯৮৬ সালে দেশ ও দলকে ভালোবেসে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে তিনি ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ছিলেন। বর্তমানেও ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ১নং সদস্য।
কিন্তু জীবন সায়াহ্নে এসে নিতান্তই পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে দেয়া মামলায় গত ৯ দিন ধরে কারাবরণ করতে হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোহাম্মদ আব্দুর রবকে। ৮০ বছরের এই বৃদ্ধকে জেলের ঘানি টানার ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয় লোকজনসহ পুরো উপজেলাবাসী। স্থানীয় পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বইছে নিন্দার ঝড়। সর্বশেষ মঙ্গলবার আদালতে তার জামিনের আবেদন করলেও আদালত পুনরায় জামিন নামঞ্জুর করেন।
হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছ থেকে ক্রয় করা জায়গার মালিকানা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধকে কেন্দ্র করে আপন চাচাতো ভাই অ্যাড. শেখ জহিরের দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে তিনি এখন জেলহাজতে। ক্ষমতা আর ষড়যন্ত্রের রোষানলে পড়ে মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোহাম্মদ আব্দুর রবকে বর্তমানে অন্যায়ভাবে জেলহাজতে আটক রাখা হয়েছে এমন দাবি করেছে তার পরিবার। এদিকে মুক্তিযোদ্ধা রব শেখের আটকের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তার মুক্তির দাবিতে নিজ এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিক্ষুব্ধরা।
জানা গেছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোহাম্মদ আব্দুর রব আদালতে হাজিরা দিতে যান। কিন্তু আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেন। মুক্তিযোদ্ধা রব শেখের বিরুদ্ধে জাল-জালিয়তি ও প্রতারণার অভিযোগ এনে গত ১১ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুরের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন তারই চাচাতো ভাই অ্যাড. জহিরুল শেখ।
রব শেখের ছেলে মো. হাজ্জাজ বলেন, আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ছাড়াও দীর্ঘ ৬০ বছর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকার পাশাপাশি ১৭ বছর যাবত সততার মধ্যে থেকে ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। কোনোদিন বাবার সুনাম ছাড়া দুর্নাম ছিলো না। আমি যদি আমার চাচা আ্যাড. জহিরের সাথে কোনো বেয়াদবি করেই থাকি সেজন্য আমাকে চাচার কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ না দিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ষড়যন্ত্র করে আমার বাবাকে জেলে পাঠাবে তা কখনো কল্পনাও করিনি।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী বলেন, নিজেদের পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে জেলে পুরে স্বনামধন্য রব শেখকে অপমান করা কোনো শুভ লক্ষণ নয়।

০২ অক্টোবর, ২০১৯।