
সাহেদ হোসেন দিপু :
হাইমচরে চরভাঙ্গায় দেওয়ান বাড়িতে ডাকাতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডাকাত দলের হামলায় ননদ-ভাবীসহ ২ জনকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে। ডাকাতরা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটকালে এলাকাবাসী ৪ ডাকাতকে ৩টি মোটর সাইকেলসহ আটক করে থানা পুলিশে সোপর্দ করে। ঘটনায় আটকদের ছাড়িয়ে নেয়া এবং ডাকাতির মামলা না নেয়ার জন্য আ’লীগ ও বিএনপি কতিপয় শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ তদবির করছে বলে জানা গেছে।
গত ৪ নভেম্বর রাত ৯টায় চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার সীমান্তবর্তী হাইমচরের চরভাঙ্গা প্রত্যন্ত গ্রামে ১০/১২টি মোটর সাইকেল যোগে ২০/২৫ জনের ডাকাত দল স্থানীয় আক্তার দেওয়ানের বাড়িতে হামলা চালায়। ডাকাত দল আক্তার দেওয়ানের স্ত্রী শাহিনা বেগম (৩২) ও শহীদ মিজির স্ত্রী শাজেদা বেগম (৪০) কে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে ঘরে থাকা ১ লাখ টাকা ও শাহিনা বেগম ও সাজেদার পড়নে থাকা ২ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে।
ডাকাতিকালে ক্ষতিগ্রস্তদের আত্মীয়-স্বজন ও পার্শ্ববর্তীদের ডাক-চিৎকারে এলাকাবাসী চারদিক ঘেরাও করে ডাকাত দলের সদস্য জুয়েল গাজি (৩০), মহিববুল্লা শেখ (২৫), শাকিল (২৫), কাজল (২৮) কে আটক করে। সংবাদ পেয়ে হাইমচর থানা পুলিশ ৪ জনকে আটক করে তাদের ব্যবহৃত ৩টি মোটর সাইকেল জব্দ করেছে।
গতকাল রোববার বেলা ১২টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে স্থানীয় সাংবাদিকরা গেলে প্রত্যক্ষদর্শী শাহালম দেওয়ানের স্ত্রী নাজমা বেগম জানান, শনিবার রাত ৯টায় স্থানীয় রতন দেওয়ানের ছোট ভাই এনামুল দেওয়ান ও জুয়েল গাজির নেতৃত্বে ১০/১২টি মোটর সাইকেল যোগে ২০ থেকে ২৫ জনের সংঘবদ্ধ একটি চক্র আক্তার দেওয়ানের ঘরে হামলা ও লুটপাট চালায়। এসময় আক্তারের স্ত্রী শাহিনা বেগম বাঁধা দিলে ডাকাত দল তাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। তাকে উদ্ধারে তার ননদ সাজেদা বেগম এগিয়ে আসলে তাকেও উপর্যুপরি কুপিয়ে জখম করে ঘরে থাকা ১ লাখ টাকা ও তাদের ব্যবহৃত প্রায় ২ ভরি ওজনের গলার চেইন ও কানের দুলসহ স্বর্ণালংকার লুটকালে আমাদের ডাক-চিৎকারে পার্শ্ববর্তী লোকজন এগিয়ে এসে ৪ ডাকাত জুয়েল গাজি, মহিববুল্লা শেখ, শাকিল ও কাজলকে ধারালো অস্ত্রসহ তাদের ব্যবহৃত ৩টি মোটর সাইকেল আটক করে।
আক্তার দেওয়ান জানান, শনিবার পার্শ্ববর্তী চরভৈরবীতে ইউপি নির্বাচন থাকায় সবাই যখন নির্বাচন ফলাফল নিয়ে ব্যস্ত ঠিক সেসময় রাতের অন্ধকারে ১০/১২টি মোটর সাইকেল যোগে ২০/২৫জনের একটি ডাকাত দল আমার বাড়িতে হামলা করে। এলাকাবাসী তাদের মধ্যে ৪জনকে ৩টি মোটর সাইকেল ও অস্ত্রসহ আটক করে। বাকি ডাকাতরা পালিয়ে যায়। ডাকাতদের পুলিশ আটকের পর রোববার সকাল থেকে জেলা পরিষদ সদস্য সুমন সরদার, ইউপি চেয়ারম্যান জলিল মাস্টার, ইসমাইল চেয়ারম্যান, মিজান শেখ, বিল্লাল মেম্বার, ফজলু শেখ, টিটু হাওলাদারসহ ঘটনা মিমাংশার আশ্বাস দিয়ে আটক ডাকাতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ না করার অনুরোধ জানান। আক্তার দেওয়ান বলেন, আমার স্ত্রী এবং বোন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমি পুলিশের সহযোগিতা কামনা করি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানান, ডাকাতির সাথে জড়িত এ চক্রটি এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে মাদক, দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ নানা অপরাধের সাথে জড়িত থাকলেও প্রভাবশালীদের প্রশ্রয় থাকায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। শনিবার ঘটনার পর থেকেই ডাকাতদের ছাড়িয়ে নিতে এবং ঘটনা মিমাংশার জন্য বিএনপি ও আ’লীগের কিছুসংখ্যক নেতা জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। শনিবার রাত থেকেই রোববার বেলা ২টা পর্যন্ত বিএনপি আ’লীগ ঐক্যজোট তদবীরকারীরা ক্ষমতাশীন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে ফোনালাপে নির্দেশনার মাধ্যমে আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নিতে থানা চত্বরে তাদের ব্যস্ততম সময় পার করতে দেখা গেছে।
হাইমচর থানার অফিসার ইনচার্জ রনোজিত রায় ডাকাতির ঘটনায় ধৈর্য্য ধরার অনুরোধ জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি আমি দেখছি। আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
