ইউপি সদস্যদের হাইকোর্টে রিট
ফরিদগঞ্জ ব্যুরো
ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ওই ইউপির ৯জন ইউপি সদস্য সরকারি বরাদ্দের টাকা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা আনাসহ হাইকোর্টে রিট করেছেন। বিচারপতি মিসেস ফারাহ মাহবুব এবং বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের আদালত এই আবেদন গ্রহণপূর্বক ওই ইউপি চেয়ারম্যানকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে জবাব দেওয়ার জন্য এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ইউনিয়ন পরিষদ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার নিদের্শনা দিয়েছেন।
জানা গেছে, উপজেলার ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন রিপনের বিরুদ্ধে তার পরিষদের ৯জন সদস্য মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মিসেস ফারাহ মাহবুব এবং বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের আদালতে রিট পিটিশন করে। রিটে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, চাঁদপুর জেলা প্রশাসক, ডিডিএলজি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং ওই ইউপি চেয়ারম্যানকে অভিযুক্ত করা হয়।
অভিযোগে প্রকাশ, ১৪ নং ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ পরিষদের বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান সরকার প্রদত্ত কোন চিঠি পরিষদের সদস্যদের না দেখিয়ে সব প্রকল্প টি.আর/কাবিখা/কাবিটা, এলজিএসপি, ৪০ দিনের কর্মসূচি, হতদরিদ্র কর্মসূচি ও ১% এর সব প্রকল্পের ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের মাসিক মিটিং না করে ও পরিষদের সদস্যদের না জানিয়ে উল্টো তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রতারণার মাধ্যমে বাড়িতে ডেকে নিয়ে স্বাক্ষর নেন।
এছাড়া জন্ম নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, মাতৃত্বকালীন ভাতা/ভিজিডি কার্ড, ডিপ টিউবওয়েল বাবদ টাকা আত্মসাৎ করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ইউপি সদস্যরা। এ বিষয়ে ইতিপূবে ইউপি সদস্যরা চাঁদপুর জেলা প্রশাসক এবং পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করলে ভবিষ্যতে এরূপ অনৈতিক কাজ করবে না বলে মৌখিক অঙ্গীকার করেন ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন রিপন। কিন্তু তিনি মৌখিক অঙ্গীকার দিয়ে আসার পরও আগের মতো স্বেচ্ছাচারিতা শুরু করেন। সর্বশেষ গত ২৭ মার্চ ভিজিডির চাল বিতরণ নিয়ে এক নারীকে শারীরিক নির্যাতনসহ অনিয়মের অভিযোগ করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিষেধ করলেও ২৯ মার্চ তিনি চাল বিতরণ করেন। এ নিয়ে ইউপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। ওই সময়ে ইউপি সদস্য লাঞ্ছিত হয়। ফলে বাধ্য হয়ে ওই ইউপির ৯জন ইউপি সদস্য গত ২৯ মে মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেন।
আদালতে রিটের শুনানী শেষে আদালত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ইউনিয়ন পরিষদ আইন ৩৯ ধারা মোতাবেক ব্যবস্থাগ্রহণ ও ইউপি চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে ৪ সপ্তাহের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন।
এ ব্যাপারে রিটের বাদী ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন রিপন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের কোটি-কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আমরা তার বিরুদ্ধে অনিয়মের কারণে অনাস্থা আনা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করি। আদালত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নিদের্শনা দিয়েছেন। এছাড়া অনিয়মের বিরুদ্ধে দুদুকে আবেদন করা হয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন রিপন জানান, তিনি হাইকোর্ট বিভাগের নোটিশ পেয়েছেন। ৪ সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিবেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসলিমুন নেছা জানান, তিনি এখনো কোন নোটিশ পাননি। নোটিশ পেলে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থাগ্রহণ করবেন।
০৭ জুন, ২০২৩।
