
স্টাফ রিপোর্টার
জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান বলেছেন, চাঁদপুরের মুক্তিযোদ্ধাদের একত্রে পেয়ে আমরা খুবই আনন্দিত। আপনাদের জেলা প্রশাসক সংবর্ধনা দেয়নি। সংবর্ধনা দেয়ার মত অবস্থান জেলা প্রশাসনের নেই। আমরা রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে আপনাদের সংবর্ধনা দিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি সবাই যার যার অবস্থান থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দিচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের হৃদয়ে যে ভালোবাসা ও যে গভীরতা এবং কতখানি ভালোবাসলে একটি দেশ হাজার বছর নয়, খুব অল্প সময়ই যুদ্ধ করে সফল হতে পারে। আমাদের দেশে এমন একজন পিতার জন্ম নিয়েছিলেন তিনি হলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার নেতৃত্বেই খুব অল্প সময়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি দেশ উপহার পেয়েছি। এখনো বিশে^ অনেক দেশ রয়েছে, যারা যুগের পর যুগ যুদ্ধ করে যাচ্ছে, তবে তাদের যুদ্ধ শেষ হচ্ছে না। স্বাধীনতা দেখাতো দূরের কথা।
গত সোমবার সকাল ১১টায় চাঁদপুর সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ অনেক এগিয়ে গেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক সম্মান দিয়েছে। আপনাদের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করার জন্য সরকার অবশ্যই চেষ্টা করবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামানের সভাপতিত্বে এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমার পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান।
তিনি বলেন, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে যেসব আয়োজন রয়েছে তার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ আয়োজনের সাথে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা। যারা যুদ্ধের মাধ্যমে এদেশকে স্বাধীন করেছেন। যার ফলে আজকে আমরা এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। মুক্তিযোদ্ধাদের আজকের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যে, তাদের কোন চাওয়া-পাওয়া ছিলো না। তাদের চাওয়া-পাওয়ার একটি বিষয় ছিলো- একটি মানচিত্র, একটি পতাকা। সেটা কিন্তু তারা পেয়েছেন। আজ সেই পতাকা ও মানচিত্র তখনই সম্মানিত হবে যখন আমরা সেই মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারদের সম্মানিত করতে পারবো।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নইম পাটওয়ারী দুলাল, যুদ্ধকালীন কমান্ডার হানিফ পাটওয়ারী, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম বরকন্দাজ, মুক্তিযোদ্ধা মহসিন পাঠান প্রমুখ।
আলোচনা সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মুক্তিযোদ্ধা মো. সানাউল্যাহ ও গীতা পাঠ করেন মুক্তিযোদ্ধা সাধন সরকার।
আলোচনা পর্বের শুরুতে অনুষ্ঠানের অতিথিবৃন্দ সব মুক্তিযোদ্ধাদের ফুল দিয়ে বরণ করেন। অনুষ্ঠানের শেষে মুক্তিযোদ্ধাদের উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।
