মতলব উত্তরের আগাম জাতের শিম চাষে লাভবান চাষি

মনিরুল ইসলাম মনির
মতলব উত্তরে আগাম জাতের শীতকালীন সবজি শিমে ফলন কম হলেও ভালো দাম পেয়ে খুশি কৃষকরা। তবে পোকার আক্রমণ থেকে বাঁচাতে কৃষকদের লাভের একটি অংশ চলে যাচ্ছে কীটনাশকের দোকানে। কৃষকদের অভিযোগ, আগাম এ শিমে পোকার আক্রমণ দেখা দিলে কৃষি অফিস জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে কীটনাশক কম ব্যবহার করার কথা বরলেও চাষিরা ইচ্ছামত কীটনাশক ব্যবহার করছে। এতে বাড়তি খরচ গুণতে হচ্ছে তাদের।
মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা, চলতি বছর এ উপজেলায় আগাম জাতের শিম চাষ হয়েছে ৫০ হেক্টর জমিতে। আর এখান থেকে উৎপাদিত শিম স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চলে যায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।
সরেজমিনে উপজেলায় ছেংগারচর ঢালীকান্দি মাঠে গিয়ে দেখা যায়, যতদূর দৃষ্টি যায় দেখা মিলবে মাঠে মাঠে এমনি শিমের দৃশ্য। একটু বেশি লাভের আশায় উপজেলার কৃষকরা আগাম জাতের শিম চাষ করে আসছে বহুদিন যাবত। তবে শিমে দেখা দিয়েছে ডগা পচা, সিদলা ও ছিদ্রকারী রোগ। এতে করে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা। তাদের লাভের বেশির ভাগ অংশ চলে যাচ্ছে কীটনাশকের দোকানে। তাই এই মৌসুমে লাভ একটু হতে পারে বলে জানান অনেক কৃষক। আগাম শিম চাষ লাভজনক হওয়ায় তারা প্রতি বছরই চাষ করে থাকেন। শীতকালীন আগাম জাতের শিম ফলনে কম হলেও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় খুশি তারা। আর প্রতি বিঘায় বর্তমানে ৫ থেকে ৬ মণ ফলন হবে। কিন্তু পরে তা বেড়ে ৮ থেকে ১০ মণ হবে।
শিমের গ্রাম নামে পরিচিত ঢালীকান্দি গ্রামের শিম চাষি কাজল প্রধান, সিরাজুল ইসলাম, আলী রেজা, মিজানুর রহমান ও মানিক মিয়া বলেন, বর্তমানে শিম গাছের ডগায় পঁচানি ও শিম ছিদ্র পোকা দেখা দিয়েছে। শিম প্রতি কেজি ৮০-৯০ টাকা বিক্রি হচ্ছে এখন। এ দামে খুশি এ অঞ্চলের কৃষক।
কৃষি অফিসের পরামর্শের পাশাপাশি ও কীটনাশকের দোকান থেকে দোকানীর পরামর্শে কীটনাশক কিনে স্প্রে করছেন। কিন্তু আশানুরূপ তেমন কোন ফল পাচ্ছেন না তারা। উপায় না পেয়ে দোকানীর পরামর্শে পোকা দমনে বিভিন্ন কীটনাশক স্প্রে করলেও তারা কোন প্রতিকার না পাওয়ায় কীটনাশক কিনতে লাভের একটি অংশ চলে যাচ্ছে।
কৃষি অফিস বলছে, শীতকালীন আগাম জাতের সবজি শিম লাভজনক ফসল হলেও বিভিন্ন পোকার আক্রমন হয়ে থাকে। যারা পরামর্শ চাইছে কৃষি অফিস থেকে তাদেরকে সার্বিক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে কৃষকদের কীটনাশকের দোকানে না গিয়ে সরাসরি কৃষি অফিসে অথবা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার মুঠোফোনে কল দিয়ে পরামর্শ নেয়ার জন্য অনুরোধ জানালেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন, বলেন এবার চলতি মৌসুমে আগাম জাতের শিষ চাহিদার চেয়ে বেশি পরিমান জমিতে চাষ করা হয়েছে। ইতিমধ্যই কৃষকরা আগাম জাতের শিম বাজারে নিয়ে আসতে শুরু করেছে। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে একটু পোকা-মাকড়ের আক্রমন হবেই। তবে পোকা ও রোগবালাইয়ের আক্রমণের শুরু থেকেই কোথাও না গিয়ে সরাসরি কৃষি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের দেওয়া পরামর্শ অনুসারে বালাইনাশক প্রয়োগ করলে তেমন একটা প্রভাব পড়বে না বলে আমি আশা করি। এছাড়াও মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।