মতলবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার। প্রশাসনিক কাজের ফাঁকে ছুটে যান মতলব উত্তরের মোহনপুর এলাকার আলী আহম্মেদ বহুমুখী কলেজ ও ছেংগারচর পৌরসভার নবাবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। শিক্ষার্থীদের পাঠদানসহ সার্বিক বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন। গত ৬ ফেব্রুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টায় এ দু’টি বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে শিক্ষার্থীদের পাঠদান এবং শিক্ষকদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বিষয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রশংসনীয় হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, গত কয়েক মাস ধরে উপজেলার ৪২টি প্রাথমিক, ১০টি মাধ্যমিক ও ২টি কলেজ পরিদর্শন করেছি। এ সময় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেছি। এতে শিক্ষার মানোন্নয়নে ও কোমলমতি শিশুদের মেধা বিকাশে অনেক সাড়া পেয়েছি।
উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সূত্রে জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার আহম্মেদ বহুমুখী কলেজে যান এবং বেলা ১১টা থেকে ১১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত তিনি কলেজটির একাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগে ইংরেজি বিষয়ে পাঠদান করেন। কাল, বাচ্য, উক্তিসহ ইংরেজি ব্যাকরণের মৌলিক খুঁটিনাটি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেন। এছাড়া জঙ্গিবাদ, বাল্যবিবাহ, মাদক, ইভটিজিংসহ নানা অপরাধের নেতিবাচক দিক সম্পর্কেও আলোকপাত করেন তিনি। কলেজটির শিক্ষার্থীরা মনোযোগসহকারে পাঠ গ্রহণ করে। একটি ইতিবাচক ও ব্যতিক্রমধর্মী। প্রশাসনে থেকেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যেভাবে শিক্ষকের ভূমিকায় নেমেছেন, তা প্রশংসার দাবি রাখে।
জানা যায়, বেলা দেড়টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নবাবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান। বেলা তিনটা পর্যন্ত তিনি এখানে ইংরেজি ও গণিত বিষয়ের ওপর চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান করেন। এসব ক্লাসে তিনি পাঠ্যবইয়ের নির্ধারিত পাঠ ছাড়াও আদব-কায়দা শিক্ষা, মা-বাবা, শিক্ষকসহ বড়দের সম্মান করা, ছোটদের ¯েœহ করা এবং সবসময় সত্য কথা বলার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করেন। শিক্ষার্থীরাও মনোযোগসহকারে তাঁর বক্তব্য শোনে।
এ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন জানায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের অনেক ভালো বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছেন। তারা সেগুলো মেনে চলার চেষ্টা করবে।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, তার বিদ্যালয়ে ১৬০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক রয়েছেন ৫ জন। শিক্ষক না হলেও তার পাঠদান পদ্ধতি দেখে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মুগ্ধ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরো বলেন, উপজেলায় শিক্ষার মানোন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এর অংশ হিসেবে এসব বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করি। শিক্ষার্থীরাও এ প্রচেষ্টাকে ভালোভাবে গ্রহণ করেছে। এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। এ জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
