ফরিদগঞ্জে হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে সংবাদ সম্মেলন


খুনের মামলায় জড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে টাকা দাবির অভিযোগ

ফরিদগঞ্জ ব্যুরো
ছেলে হত্যা মামলার আসামি। প্রেমে ব্যর্থ হয়ে নিজেই তার প্রাক্তন প্রেমিকাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। ফলে পুলিশও নিশ্চিত হয়েছে হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে সুজন খান নিজেই। যদিও এই ঘটনায় তার ছোট ভাই সোহেব খান এখনো জেলে রয়েছে।
কিন্তু ছেলের এই খুনের ঘটনার দায়েরকৃত মামলায় আসামি না হয়েও বসতবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন পেশায় রিক্সা-বাইসাইকেল মিস্ত্রি পিতা আবুল বাশার। প্রতিপক্ষের দাবিকৃত টাকা না দিলে মামলায় জড়ানো ও প্রাণনাশের হুমকিতে আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়েন তিনি। দোকান খুলতে গেলে তাকে বাঁধা দেয়া হয়। ফলে গত দু’মাস ধরে আবুল বাশার ও তার পরিবার পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব বক্তব্য তুলে ধরে এর থেকে মুক্তি চেয়েছেন আবুল বাশার। এসময় তিনি বলেন, আমার ছেলে অপরাধ করেছে। তার উপযুক্ত শাস্তি হোক, পিতা হয়েও আমি তা চাই। কিন্তু মামলার আসামি না হয়েও মামলার বাদীর ভাসুর সাবেক ইউপি সদস্য সেকান্তর বেপারী ও তার দুই ছেলে তাদের এই হয়রানি করছে।
আবুল বাশার লিখিত বক্তব্যে জানান, গত ৩০ জুলাই পার্শ¦বর্তী বাড়ির সেলিম মিয়ার মেয়ে জাহেদা আক্তার মিশুকে খুন করার অপরাধে তার ছেলে সুজন খান পুলিশের হাতে আটক হয়। এই ঘটনায় নিহত জাহেদা আক্তার মিশুর মা ছালেহা বেগম বাদী হয়ে ছেলে সুজন খান অপর এক ছেলে সোহেব খান, নিহত মিশুর দুই দেবর ও এক বন্ধুকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় আমাকে বা আমার স্ত্রী ও মেয়েকে আসামি করা না হলেও এলাকার একটি কুচক্রি মহলের যোগসাজশে স্থানীয় প্রভাবশালী ও নিহত মিশুর চাচা সেকান্তর বেপারী ও তার দুই ছেলে কর্তৃক ঐ মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করবে বলে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে এবং দুই লাখ টাকা দাবি করে আসছে। দাবিকৃত টাকা না দেয়ায় প্রাণনাশের অব্যাহত হুমকি দিচ্ছে। আমি বাড়িতে না থাকার সুবাদে আমার বসতঘরে ঢুকে ভাংচুর ও লুটপাট করে ঘরের জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। এসব দুষ্কৃতকারীদের এরূপ ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও অপকর্মের ফলে দীর্ঘ দু’মাস যাবত আমি বাড়িঘর ছেড়ে আমার শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান করছি। ইতোপূর্বে আমার মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে যেয়ে তাকে মারধর করেছে। ফলে আমরা আতংকে রয়েছি। একান্ত বাধ্য হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মেয়ে রাবেয়া।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আবুল বাশারের মেয়ে রাবেয়া, স্ত্রী কুলছুমা, শ্বশুর আব্দুল খালেক, শ্যালক নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

০২ অক্টোবর, ২০১৯।