কচুয়ায় লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন

সাইফুল মিজান
কচুয়ায় ঘণ্টায়-ঘণ্টায় পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দিনে-রাতে প্রায় অর্ধেকেরও বেশি সময় ধরে থাকছে না বিদ্যুৎ। প্রতিদিন ৮ হতে ১০ বার লোডশেডিং করা হচ্ছে। কচুয়া পৌর এলাকায় বিদ্যুৎ কিছুটা থাকলেও গ্রামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হয়। একবার বিদ্যুৎ গেলে আসার আর খবর থাকে না। ফলে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন কচুয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় হাজার হাজার গ্রাহকরা। রাতে হারিকেন আর মোমবাতি জ¦ালিয়ে শিক্ষার্থীরা পড়াশুনাসহ সাংসারিক কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। কদর বেড়েছে হাতপাখার। ২৫ থেকে ৩০ টাকার হাতাপাখা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা।
কচুয়ায় মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। বিদ্যুতের সন্ধ্যাকালীন ৩৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে আমরা ১২-১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে এবং দিনে ২৫ মেগাওয়াটের পরিবর্তে ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ফলে বার-বার লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। গত এক মাস ধরে পুরো কচুয়া উপজেলাজুড়ে পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় ঘণ্টায় ২/৩ বারেরও বেশি লোডশেডিং করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় থাকছে না বিদ্যুৎ। অনেকেই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বিদ্যুতের দুর্ভোগ লাঘবে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। তীব্র এ গরমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে শিশু-বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা জানান, গ্রাম এলাকায় একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে আর আসার খবর থাকে না। এক-দেড় ঘণ্টা পর এলেও আধা ঘণ্টাও থাকে না। তারা আরও বলেন, এতে বিদ্যুৎ না থাকায় এবং অসহনীয় গরমে মানুষ রাতে ঘুমাতে পারছে না।
কচুয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, পৌর শহরের তুলনায় গ্রামে বিদ্যুৎ থাকে না, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম পাওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে। আশা করছি ১৫-২০ দিনের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হবে।

০৮ জুন, ২০২৩।